|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চড়–কাণ্ডের আট মাস পর অভিনেত্রী তিশা–অথৈকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
২৩১ পঠিত
চড়–কাণ্ডের আট মাস পর অভিনেত্রী তিশা–অথৈকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পৃথক দুটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

প্রকাশিত চিঠি দুটি গত ৪ অক্টোবরের। তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই তাঁদের ‘সদস্যপদ স্থগিতকরণ’ সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিস বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠি দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।

সামিয়া অথৈই ও তানজিন তিশা

সামিয়ার অভিযোগ ছিল, নাটকের একটি দৃশ্যে তাঁর তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেছিলেন; কিন্তু এরপর তিশা তাঁকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন সামিয়া।
শুধু ওই দিনের ঘটনাই নয়, এর আগেও তিশার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন সামিয়া। অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করা নিয়েও তিশা তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সামিয়ার ভাষ্যমতে, ফারহানকে নিজের স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন তিশা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিশা
অন্যদিকে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তাঁর দাবি ছিল, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, সবই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে আঘাত করেননি তিনি।
তখন তিশা জানিয়েছিলেন, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণে অন্যকে আঘাত করা বা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। তাই অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যা ছিল, সেটিই করেছেন তিনি।
তিশার বক্তব্য ছিল, নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শকেরা ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবেন। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পেশাদারত্বের জায়গা থেকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।
নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারও ঘটনাটিকে ভুল–বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, নাটকের দৃশ্যে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পরই সতর্ক করেছিল সংগঠন
দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই বিবৃতি দেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত জটিলতা বা মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রচার করা আচরণবিধির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার একতরফা উপস্থাপন অভিনয়শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এ ধরনের বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
একই সঙ্গে সংগঠনটি সতর্ক করেছিল, কোনো সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে সালিস ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়; কিন্তু একাধিকবার আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।
সর্বশেষ গত ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও দুই অভিনেত্রীর কেউ লিখিত জবাব দেননি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করা হলো।
তবে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠিতে শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত মূলত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।

সূত্র: প্রথম আলো