সংঘর্ষ-অবরোধের পর শান্ত গাজীপুরে শিল্পাঞ্চল, ধীরে ধীরে খুলছে কারখানা
গণমাধ্যম ডেক্স
টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক পরিবেশ। খুলতে শুরু করেছে বন্ধ কারখানা, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা। তবে আপাত শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, অন্যথায় শ্রমিকদের নতুন আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। তবে কিছু কারখানায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ছিল। তবে ধীরে ধীরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করেছে এবং শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিচ্ছেন। কিছু কারখানায় উৎপাদনও চলছে। কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেদিনও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনসিপির শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী ও এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার কারণে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবা, গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আবুল কাশেম মাস্টার, এবি পার্টির জেলা ও মহানগর সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতারা। গত ৪ নভেম্বর চন্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সদস্যসচিব জামান ঢালি ও মুখ্য সংগঠক রকিবুল হাসান জয়ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিল শেষে আলী নাছের খান অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে সরকার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিয়ে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার, মারধর এবং দলীয় অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অতীতের দমন-পীড়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আলী নাছের খান। একই সঙ্গে তার স্মরণে সংশ্লিষ্ট সড়কের নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকেরা নতুন করে আন্দোলনে নামতে পারেন। বল প্রয়োগ করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দমন করা সম্ভব নয় বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
এরই মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনাও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
সূত্র: কালবেলা