|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সে ভিডিও দেয়নি, আমিও দিতে পারিনি: তানজিন তিশা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম
২৬২ পঠিত
সে ভিডিও দেয়নি, আমিও দিতে পারিনি: তানজিন তিশা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

গত ৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি। পরে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। গতকাল শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নীরব থাকেননি তানজিন তিশা। গতকাল রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে কথা বলেন তিনি। শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ এবং গত আট মাসের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের বিষয়টিও। তিশার মতে, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।’

গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গও টানেন তিশা। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

শুটিং সেটের ঘটনা নিয়ে যা বললেন
সদস্যপদ স্থগিতের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধের ঘটনাটি আবারও সামনে আনেন তিশা। তাঁর দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। বিষয়টি নতুন করে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘“পুতুলের বিয়ে” নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।’

নাটকে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে তিশা বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।’
তিশার ভাষ্য, ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সালিশ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটিও ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন তিনি।

তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈই

তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’
সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিশা আরও বলেন, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’

‘আমি থেমে থাকব না’
ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে গত আট মাসের নানা প্রতিকূলতার কথাও বলেন তিশা। তবে এসব ঘটনায় তিনি দমে যাননি বলে জানান। নিজের অবস্থানের পক্ষে অটল থাকার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি, কারণ আমি জানি, আমি ভুল কিছু করিনি।’

তানজিন তিশা

এর আগে গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলাকালে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। ফেসবুক লাইভে সামিয়া দাবি করেন, নাটকের একটি দৃশ্যে তিশাকে তাঁর আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। কিন্তু তিশা তাঁকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তিনি আহত হন বলেও অভিযোগ করেন সামিয়া।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনেই তিনি অভিনয় করেছেন। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাঁদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। চেয়েছিলাম, তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে সমঝোতায় পৌঁছান। বিষয়টি মিটমাট হয়েছে জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা কেউই সংগঠনের প্রস্তাব মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী দুজনের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিশা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও সামিয়া অথৈর নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। সংগঠনটির এই সিদ্ধান্তের পর দুই অভিনেত্রীর বিরোধের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

সূত্র: প্রথম আলো