|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পেরুর পাহাড়ে ঝুলন্ত হোটেল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
৩৯৭ পঠিত
পেরুর পাহাড়ে ঝুলন্ত হোটেল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পেরুর সেক্রেড ভ্যালির মাটি থেকে ৩৬৫ মিটার উঁচুতে খাড়া পাহাড়ের গায়ে ঝুলে আছে স্বচ্ছ কাচের তৈরি কয়েকটি ঘুমানোর ক্যাপসুল। চারপাশে আন্দিজ পর্বতমালার অপূর্ব দৃশ্য, মাথার ওপর তারাভরা আকাশ। তবে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রাত কাটানোর আগে অতিথিদের পাড়ি দিতে হয় রীতিমতো ভয়ংকর এক পথ। হোটেলটিতে চেক-ইন করাই যেন বড় এক...

পেরুর সেক্রেড ভ্যালির মাটি থেকে ৩৬৫ মিটার উঁচুতে খাড়া পাহাড়ের গায়ে ঝুলে আছে স্বচ্ছ কাচের তৈরি কয়েকটি ঘুমানোর ক্যাপসুল। চারপাশে আন্দিজ পর্বতমালার অপূর্ব দৃশ্য, মাথার ওপর তারাভরা আকাশ। তবে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রাত কাটানোর আগে অতিথিদের পাড়ি দিতে হয় রীতিমতো ভয়ংকর এক পথ। হোটেলটিতে চেক-ইন করাই যেন বড় এক দুঃসাহসিক অভিযান।

পেরুর এই হোটেলের নাম ‘স্কাইলজ অ্যাডভেঞ্চার স্যুইটস’। এখানে পৌঁছাতে অতিথিদের খাড়া পাথুরে পাহাড় বেয়ে উঠতে হয়। কোথাও সরু সিঁড়ি, কোথাও লোহার ধাপ, আবার কোথাও তারের তৈরি ঝুলন্ত সেতু পার হতে হয়। পুরো পথেই নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বেল্ট ও ক্যারাবিনার ব্যবহার করতে হয়। পাহাড়ের গায়ে প্রায় ২০০ মিটার গভীর খাদ পেরিয়ে ২০ মিটার দীর্ঘ একটি সরু তারের সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

বিবিসি ট্রাভেলের এক প্রতিবেদনে হোটেলটিতে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক পর্যটক। স্বামীর সঙ্গে সেখানে যেতে গিয়ে উচ্চতাভীতির কারণে শুরুতে বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে গাইডের সহায়তায় ধীরে ধীরে পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। পথটি এতটাই কঠিন ছিল যে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

হোটেলের স্বচ্ছ দেয়ালের ক্যাপসুল থেকে দেখা যায় সেক্রেড ভ্যালি ও উরুবাম্বা নদীর দৃশ্য। সন্ধ্যায় অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় চার পদের পেরুভীয় খাবার। রাতের খাবারের পর আবার নিরাপত্তাবেল্ট পরে পাহাড় বেয়ে নিজেদের ঘুমানোর ক্যাপসুলে পৌঁছাতে হয়। প্রতিটি ক্যাপসুলে তিনটি বিছানা ও উপত্যকার দিকে ৬টি জানালা রয়েছে। তবে গোসলের ব্যবস্থা নেই। রয়েছে পরিবেশবান্ধব শুষ্ক শৌচাগার।

রাতের আকাশে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় গাইড জানান, ইনকা সভ্যতার মানুষের কাছে উরুবাম্বা নদীকে আকাশগঙ্গার পার্থিব প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

পরদিন সকালে নাশতার পর অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করে আরও একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। পাহাড় থেকে নিচে নামতে ব্যবহার করতে হয় ছয়টি জিপলাইন। এগুলোর দৈর্ঘ্য ১৫০ থেকে ৭০০ মিটার পর্যন্ত। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে জিপলাইনে চড়ে পাহাড়ের নিচে পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিতে চান এমন পর্যটকদের জন্য স্কাইলজ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী গন্তব্য। তবে সেখানে রাত কাটাতে হলে শুধু ভ্রমণের আগ্রহ নয়, প্রয়োজন সাহস ও শারীরিক সক্ষমতাও।
 
সূত্র: বিবিসি

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স