যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু হামলা চালাবে কি? ইরানে দেওয়া হচ্ছে আয়োডিন ট্যাবলেট
গণমাধ্যম ডেক্স
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে বিবেচনা করছেন- এমন খবরের মধ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আয়োডিন বিতরণ করছি।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না। তিনি এ ধরনের হামলা চালাতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, সামরিক উত্তেজনা বাড়লে ইরান নিয়মিতভাবে পারমাণবিক স্থাপনার দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারীদের প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে এসব ট্যাবলেট দিয়ে থাকে।
পারমাণবিক দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ছড়িয়ে পড়লে তা যেন থাইরয়েড গ্রন্থিতে জমা না হয়, সে জন্য আয়োডিন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। তবে এসব ট্যাবলেট বিতরণের অর্থ এই নয় যে, শিগগিরই তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি
এদিকে ওয়াশিংটনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক রাজনৈতিক সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি দেশটির কর্মকর্তাদের এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এসব বৈঠক হয়।
ফক্স নিউজ আরও উল্লেখ করেছে, ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা থাকবে। ফলে রাতের আকাশে চাঁদের আলো প্রায় থাকবে না। সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওই দিন কোনো হামলার পরিকল্পনা রয়েছে; এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও হামলা চালানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্ভব হলে তিনি ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। তবে হয়তো তাকে তা করতে হতে পারে।
এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। তবে অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারে ইরাকের আপত্তি
উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি। এ সময় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ঘাঁটি হিসেবে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে; এমন উদ্বেগের মধ্যেই ইরাক এই অবস্থান জানাল।
সূত্র: আল জাজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনাল, টাইমস অব ইন্ডিয়া
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স