আদালতে ‘ব্যাড টাচের’ অভিযোগ পরীমনির, অকথ্য ভাষায় গালাগাল
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
আলোচিত বোট ক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি। তবে শুনানি থেকে যাওয়ার সময় একজন তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে মে...
আলোচিত বোট ক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি। তবে শুনানি থেকে যাওয়ার সময় একজন তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে মেজাজ হারিয়ে অকথ্য ভাষায় এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালির অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। এসময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন তার সঙ্গে থাকা ১০ বডিগার্ড।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিন আত্মসমর্পণ করতে সকাল সাড়ে ৯ টায় আদালতে আসেন পরীমনি। এসময় তার সঙ্গে ১০ ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পরে ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে যান। তার উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শুরু হয়। তবে এজলাসের ভেতর সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়াসহ বিশৃঙ্খলা করতে দেখা যায় পরীমণির বডিগার্ডদের। সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন ওই বডিগার্ডরা।
এদিকে শুনানি শুরু হলে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালত থেকে বের হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।
পরে গাড়িতে উঠার সময় একজন তার গায়ে ‘ব্যাড টাচ’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে একজন সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গারাগাল করেন পরীমনি। তবে পরে তার ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল মামলাটি সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।
এ আইনজীবী আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন পরীমনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরীমনি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স