|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
৪৪০ পঠিত
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ বিরোধীদের জন্য ইহুদি-আরব সহযোগিতা। কিন্তু সেটিই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় বাধা।

ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই স্পষ্ট জয় না পাওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন।

তাহলে নতুন সরকার গঠনের পথ কী

কাজটি মোটেও সহজ হবে না। রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন এতটাই গভীর যে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হওয়া যেকোনো জোট গঠনও প্রায় অসম্ভব।

তবে সরকার গঠন একেবারে অসম্ভব নয়। এমনকি এক বছরের কিছু বেশি সময় টিকে থাকা দুর্বল কোনো জোটও গঠন করা যেতে পারে। দলীয় নেতারা নির্ধারিত ১২ সপ্তাহের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে আবারও ভোট দিতে হবে ইসরায়েলিদের। এ পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য চারটি পথ রয়েছে:

প্রথম পথ: বিরোধীদের সরকার

কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ বিরোধীদের জন্য ইহুদি-আরব সহযোগিতা। কিন্তু সেটিই বিরোধীদের সবচেয়ে বড় বাধা।

বিরোধী জোটের ডানপন্থী দুই নেতা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান পার্লামেন্টের দুই আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার চান না। জোট সরকারের অংশ হিসেবেই হোক কিংবা বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে—কোনোভাবেই তাঁরা এমন সরকার গঠনে রাজি নন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর থেকে এই দুই নেতা আরব ইসরায়েলিদের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান আরও কঠোর করেছেন।

ইসরায়েলের ইতিহাসে মাত্র একবার কোনো আরব দল পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারে অংশ নিয়েছিল। ২০২১ সালে রাআম আট দলের একটি জোটের অংশ ছিল। সেই জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়। তবে ক্ষমতায় এক বছরের কিছু বেশি সময় থাকার পরই জোটটি ভেঙে যায়।

বিরোধী দল থেকে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে দলত্যাগে উৎসাহিত করতে পারেন নেতানিয়াহু। এমনকি কোনো কোনো আইনপ্রণেতা ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর পক্ষে আসতে পারেন। তবে বিরোধী জোটের চার নেতা আইজেনকট, বেনেট, লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান—সবাই ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করবেন না।

সরকার গঠন করতে না পারলেও বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তারা স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনতে পারে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা সীমিত করা সম্ভব। তবে তাঁকে সরিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের মতো জোট গঠন করা এখনো অত্যন্ত জটিল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়।

দ্বিতীয় পথ: জাতীয় ঐক্যের সরকার

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, দুই জোটই ভেঙে গিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পাশাপাশি তাঁর বর্তমান জোটের কয়েকটি দলও থাকবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকে এতে যোগ দিতে হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এমন সরকার গঠনে নেতানিয়াহু তাঁর কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হতে পারেন। তবে আরেক কট্টরপন্থী নেতা ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও উগ্র রক্ষণশীল অর্থোডক্স দলগুলো ছাড়তে তিনি রাজি নন।

অন্যদিকে, আইজেনকট অবশ্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে বসার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছেন। ইসরায়েলের যে সাধারণ মানুষ ‘বিবি’র (নেতানিয়াহু) বিদায় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে, আইজেনকট যদি এখন তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করেন, তবে তারা এটিকে একটি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখবে।

তৃতীয় পথ: বিরোধী শিবির থেকে দলত্যাগ করিয়ে নেতানিয়াহুর সরকার গঠন

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, বিরোধী দল থেকে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে দলত্যাগে উৎসাহিত করতে পারেন নেতানিয়াহু। এমনকি কোনো কোনো আইনপ্রণেতা ব্যক্তিগতভাবেও তাঁর পক্ষে আসতে পারেন।

তবে বিরোধী জোটের চার নেতা আইজেনকট, বেনেট, লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান—সবাই ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন করবেন না।

এ ছাড়া নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৮ আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বিরোধী শিবির থেকে অন্তত আটজন আইনপ্রণেতাকে নিজের পক্ষে টানা তাঁর জন্য হবে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসরায়েলের ইতিহাসে মাত্র একবার কোনো আরব দল পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারে অংশ নিয়েছিল। ২০২১ সালে রাআম আট দলের একটি জোটের অংশ ছিল। সেই জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়। তবে ক্ষমতায় এক বছরের কিছু বেশি সময় থাকার পরই জোটটি ভেঙে যায়।

চতুর্থ পথ: আবার নির্বাচন

এসব সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পার্লামেন্টে আসন পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা করবেন।

দলীয় নেতাদের মতামত নেওয়ার পর তাঁদের একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট। আরব দলগুলো আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

যিনি এ দায়িত্ব পাবেন, সরকার গঠনে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বৃদ্ধি করা হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে তিনি ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় একজন নেতাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন। তাঁর জন্য সময় থাকবে শুধু ২৮ দিন।

এরপরও সমাধান না এলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারবেন। ওই প্রার্থী জোট গঠনের জন্য ১৪ দিন পাবেন। এ তিন ধাপের কোনোটিতেই সমাধান না এলে আবার নির্বাচন হবে।

হিসাব–নিকাশ করা সম্ভাব্য এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন নেতানিয়াহু। তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে অপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকট প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলে এবং ব্যর্থ হলে সেই দায়িত্ব নেতানিয়াহুর কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহুও ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলে আবার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আরও কয়েক মাস তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তিনি।

আগামী বসন্তের আগে নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এমন নির্বাচনই এখন বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে। কারণ, সদ্য ঘোষিত (আজ শুক্রবার সকালে) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ইসরায়েলকে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আবার নির্বাচন হলে তা হবে আট বছরের মধ্যে সপ্তম সাধারণ নির্বাচন।

সূত্র: প্রথম আলো