|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হুট করে নিইনি, চাপ ছিল: সামান্তা শারমিন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
২০৮ পঠিত
এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হুট করে নিইনি, চাপ ছিল: সামান্তা শারমিন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়ার সিদ্ধান্ত হুট করে নেননি বলে জানিয়েছেন দলটির সদ্য পদত্যাগী যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ করার জন্য দলের ভেতর থেকে যেমন চাপ ছিল, তেমনি বাইরে থেকেও বিভিন্ন পক্ষ তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়েছে। পদত্যাগের ঘোষণার পর অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ ট...
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়ার সিদ্ধান্ত হুট করে নেননি বলে জানিয়েছেন দলটির সদ্য পদত্যাগী যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ করার জন্য দলের ভেতর থেকে যেমন চাপ ছিল, তেমনি বাইরে থেকেও বিভিন্ন পক্ষ তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়েছে। পদত্যাগের ঘোষণার পর অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে একটি প্রথাগত দলে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে দলের ভেতরে থেকে ‘নিজের অবস্থান তুলে ধরার’ চেষ্টা করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো ‘কোনো কার্যকর ফোরাম না থাকায়’ পদত্যাগ করেছেন। সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দলের হাত ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করা, এটার পক্ষপাতি আমি কখনোই ছিলাম না।... কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমার যতটুকু সাধ্য, সামর্থ্য, শক্তি  ছিল, ততটুকু আসলে ফুরিয়েছে এই পার্টিকে আসলে ওই পথ থেকে টেনে বের করে আনার জন্য।’ তিনি জানান, আপাতত নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। আগামী দুই-তিন মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা ঠিক করবেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তে সামান্তা শারমিন জানান, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সুখকর ছিল না। কারণ এনসিপি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। দল প্রতিষ্ঠার আগে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নাগরিক কমিটিই এনসিপির ভিত্তি। সেই ইতিহাস বাদ দিলে দলটির অস্তিত্বের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘নিজের হাতে গড়ে তোলা দল কেউই ছাড়তে চায় না, এটা আসলে আমার জন্য কোনো সুখকর অনুভূতি না। আর প্লাস এনসিপি তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।’ সামান্তা শারমিন জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দলের সঙ্গে সামান্তার মতবিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল গত নির্বাচনের আগে এনসিপি যখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গড়ল, তখন থেকেই। তাহলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগল, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘নিজের রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যত দিন ছিল, তত দিন দলকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও যখন পদত্যাগের কথা ভেবেছেন, তখন তাদের নিরুৎসাহিত করেছি। তবে দল পুনর্গঠনের পর ভিন্নমত তুলে ধরার মতো ফোরাম আর অবশিষ্ট ছিল না। এখন যখন আর কোনো ফোরাম নেই, তো মানে আমি আসলে কোথায় ফাইটটা করব?’ সামান্তা বলেন, ‘আগে দলের সাধারণ সভা ও নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ ছিল। রাজনৈতিক পর্ষদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। কিন্তু তার উত্থাপিত আপত্তিগুলো দল আর ভুল বলে মনে করেনি।’ এখন সাধারণ সভা কবে হবে, আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। উনি (নাহিদ ইসলাম) কীসের ভিত্তিতে আহ্বায়ক হলেন এমন প্রশ্ন রেখে এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘শুধু তার নয়, আরও অনেকের সাংগঠনিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার ঘটনা এক দিনে ঘটেনি। একই সঙ্গে যারা নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন, তাদের যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ডও প্রকাশ করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘একজনকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন, তা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা উচিত। কিন্তু এনসিপিতে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রকাশ্য মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্ষদ নিজেদের বিবেচনা মতো পদ বণ্টন করেছে। কোনো দায়িত্ব আপনি যখন কাউকে অর্পণ করেন, আপনি যখন নিয়োগ দেন, তখন কিন্তু সেটার ক্রাইটেরিয়াটা একটা প্রকাশ্য ক্রাইটেরিয়া থাকে।... কিন্তু এরকম কোনো ক্রাইটেরিয়া দলের পক্ষ থেকে ওপেন করা হয়নি।’ সামনে কাউন্সিল আয়োজনের কথা থাকলেও তার আগে আহ্বায়ক কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন কেন আনা হলো, সেই প্রশ্ন তুলে সামান্তা বলেন, ‘একদম টপ টু বটম পুরোটাই পরিবর্তন করে ফেলা হলো, কীসের ভিত্তিতে পরিবর্তন করে ফেলা হলো? কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নেই।’ সামান্তা শারমিন বলেন, ‘১৯৬ সদস্যের কমিটিতে ১৬০ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। পদ বণ্টনের এ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ পদ্ধতিতে হয়নি। আপনি দেখেন, আমার যুগ্ম আহ্বায়ক পদ, আমি কেন যুগ্ম আহ্বায়ক, আমি তো সদস্যও থাকতে পারতাম, কীসের ভিত্তিতে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হলো? আমাকে সদস্য কেন করা হলো না? আরগুমেন্টটা আসছে যে, আমাকে কেন সিনিয়র পোস্ট দেওয়া হলো না? আমি আরগুমেন্ট করতে চাই আমাকে কেন জুনিয়র পোস্ট দেওয়া হলো না? এরকম তো সব পোস্টের ব্যাপারেই আপনি প্রশ্নগুলো করতে পারেন। যিনি আহ্বায়ক হয়েছেন, উনি কীসের ভিত্তিতে আহ্বায়ক হলেন? কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আহ্বায়ক হলেন? উনি তো নির্বাচিত না।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বদলানোর লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘দলটি শেষ পর্যন্ত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকেছে।’ এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার তুলনা করেন সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মতামত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল এনসিপি। সেজন্য সাত বা আট সদস্যের একটি ফোরামের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ রাখা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘লাইক মাইন্ডেড পিপল দিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করা যায় না, বিরোধী মতকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করতে হয়। কিন্তু দলের ভেতরে কমিটি পুনর্গঠনের সময় বিরোধী মতের প্রতি একই ধরনের মনোভাব দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করার কথা বললেও নিজেদের দলের ভেতরে ভিন্নমতকে উপেক্ষা করেছে এনসিপি। এনসিপি তার যে রাষ্ট্রীয় প্রস্তাবনা, সেখানে তার প্রস্তাবনা একরকম, নিজের পার্টির ভিতরে অন্যরকম।’ এ সময় ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এনসিপিবিরোধী মতকে জায়গা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের অসংগতি দেখাতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। এনসিপির নেতৃত্ব দল পরিচালনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা বলেন, ‘বিষয়টিকে শুধু একজন ব্যক্তির নেতৃত্বের সমস্যা হিসেবে দেখলে তা সরলীকরণ হবে। বরং দলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তার আধিপত্য তৈরি হয়েছিল। দলের শেষ পর্যায়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে আমি ও নাহিদা সারোয়ার নিভা অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে দলের অন্যদের একমত হতে বাধ্য করা হয়েছে। পার্টির মধ্যে একটা প্রচণ্ড প্রেশার আছে যে একমত হওয়ার, বাধ্য করা হবে একমত হতে।’ তিনি জানান, জোট গঠন ও দলের রাজনৈতিক নীতির বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি সংসদে এনসিপির একজন সংসদ সদস্যের প্রত্যেক উপজেলায় দলীয় কার্যালয় স্থাপনের বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এসব বিরোধিতা দলের নেতৃত্ব সহজভাবে গ্রহণ করেনি। এ সময় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে গোপন ব্যালট ও অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়ার চর্চা থাকায় নেতাকর্মীরা নিজেদের পদ নিশ্চিত হওয়ার আগে ভিন্নমত প্রকাশ করতে চাইতেন না বলেও জানান সামান্তা শারমিন। এনসিপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও পরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা এই নেত্রী জানান, জোট গঠনের সিদ্ধান্তের সময় দলের রাজনৈতিক পর্ষদে ১০ জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন নারী, তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা ও তিনি। বাকি সাতজন ছিলেন পুরুষ। তিন নারী সদস্যই জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তাদের আপত্তিকে নারীদের একটি বৃহত্তর অংশের প্রতিনিধিত্বকারী মতামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা ৩ জন নারী একই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি, আমাদের কথাটাকে নারী সমাজের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব এবং কণ্ঠস্বর হতে পারে, ৫০ শতাংশ মানুষের কণ্ঠস্বর হতে পারে, এটার অর্থে বিবেচনায় করা হয়নি।’ তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে এনসিপির ঘোষিত অবস্থানের মিল ছিল না। পরে তাদের বলা হয়েছিল, তারা ওই ফোরামে নারী হিসেবে ছিলেন না; বরং নিজ নিজ যোগ্যতায় ছিলেন। এ যুক্তির মধ্য দিয়ে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা একটা পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, নারী বনাম পুরুষ হয়ে গেছে এটা এবং আমাদের কণ্ঠস্বরকে নারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।’ এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করতে গিয়ে একঘরে হয়ে পড়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা শারমিন জানান, তার আপত্তিকে শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা হিসেবে দেখলে বিষয়টি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হবে না। সংস্কারপন্থি নয়, এমন পুরোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নতুন দলের জোট করা উচিত নয়। কারণ এতে নতুন দলের সংস্কারের রাজনীতি করার সুযোগ সংকুচিত হয়। তিনি বলেন, ‘পুরোনো দলের স্ট্রাকচার আছে এমন কোনো দলের সাথে নতুন দলের স্ট্রাকচার একসাথে জোট হতে পারে না। তাহলে আর নতুন দলটি পুরাতন সংস্কারের পুরাতন দলের বা পুরাতন ব্যবস্থার সংস্কারের বিরোধী, মানে সংস্কারের রাজনীতি আর করতে পারবে না।’ সামান্তা জানান, এ অবস্থান নেওয়ার কারণে দলের ভেতরে তাকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিভিন্ন সভায় তার পক্ষে কথা বলার লোকও কমে গিয়েছিল। একটি সাধারণ সভায় কমিটি পুনর্গঠনের বিরোধিতায় তাদের প্রস্তাব ৭১-১৫ ভোটে হেরে যায়। ওই ১৫টি ভোট পাওয়ার কারণেও অসন্তোষের কথা শুনতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, আপনি কি থামবেন, নাকি আপনাকে বহিষ্কার করব, এ ধরনের কথাও বলা হয়েছে। তবে একঘরে হয়ে পড়ার চেয়েও বড় হতাশার বিষয় হলো, এত চাপের মধ্যেও দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে না পারা।’ জামায়াতকে সংস্কারের রাজনীতির ধারক মনে করেন না বলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সামান্তা। তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় বুঝতে হলে দলটির গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ও কার্যক্রম দেখতে হয়। শুধু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেই একটি দলকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রকল্পের ধারক বলা যায় না।’ জামায়াতের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামান্তা বলেন, ‘তার যে রাজনৈতিক প্রকল্প, তার গঠনতন্ত্র এবং তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, এক ধরনের ধর্মীয় শাসন কায়েম করাই তার উদ্দেশ্য। যদি এটা হয় তাহলে আসলে মানে তাকে গণতন্ত্রকে সে কীভাবে দেখে, সেটার কোনো ব্যাখ্যা, পরিষ্কার ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত আপনি জামায়াতের কাছ থেকে পাবেন না। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের মানুষ কীভাবে আসলে এরকম একটা গণসংগঠনে যুক্ত হবে, সেটার কোনো ক্রাইটেরিয়া আসলে জামায়াত দিতে পারবে না। ফলত তার (জামায়াতের) যে আলটিমেট রাষ্ট্রপ্রকল্প, সেটা হচ্ছে একটা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, একটা সামাজিক ফ্যাসিবাদের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করা। তো এখন মাঝখানে সে গণতান্ত্রিক প্রসেসে ইনভলভড থাকে, এটা তো তার আসল চরিত্র না। এটা তো তাকে বিভিন্ন সময় ধারণ করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সময় সে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, যখন আবার মানে স্যরি, ব্রিটিশদের সাথে তাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল, পরে পাকিস্তানের স্বপক্ষে ছিল, আবার পাকিস্তানের আবার ভাগের বিরোধিতা করেছে যখন হচ্ছে বাংলাদেশ আলাদা হয়, মানে নানা ধরনের অবস্থান, মানে ইস্যুভিত্তিক অবস্থান তাদের নিতে দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে সারভাইভাল টেকনিক তার, কিন্তু তার গঠনতন্ত্র এবং তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আপনি একটা জিনিসই দেখবেন, তারা আসলে এক ধরনের ধর্মীয় রাষ্ট্র, একক মনোলিথিক রাষ্ট্র চায়।’ তবে যারা এনসিপিকে জামায়াতের ‘বি টিম’ বলেন, তাদের সঙ্গে একমত নন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও আদর্শ বিশ্লেষণ না করে এ ধরনের পরিচিতি দেওয়া রাজনৈতিক আলোচনাকে দুর্বল করে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির কোথায় মিল বা অমিল, তা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।’ এনসিপির নেতৃত্ব যদি জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এবং দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করে, তাহলে ফিরে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্তা জানান, দলটি তার দীর্ঘদিনের শ্রমের ফল। তিনি কখনোই দল ছাড়তে চাননি। তবে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করা দলগুলোর পক্ষে পরে সেই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। সামান্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে এরকম কোনো উদাহরণ নেই, আমি পৃথিবীতেও এরকম কোনো উদাহরণ দেখিনি, একবার পুরনো সিস্টেমের মধ্যে ফাংশন করে, পরে সে বিপ্লবী হয়ে গেছে। তারপরে সে একেবারেই আগের কোনো মানে পুরাতন সিস্টেমকে সে উৎখাত করেছে, এটা আমি দেখিনি। এ কারণে এনসিপি আগের অবস্থানে ফিরে আসবে, এমন আশা আপাতত দেখছি না। তবে তাদের প্রতি শুভকামনা রয়েছে।’ এনসিপি ছাড়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না সামান্তা। তিনি জানান, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার করে নতুন ধরনের রাজনীতি করতে বাধ্য করাই তার রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। এ ক্ষেত্রে জনগণের চাপই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সামান্তা শারমিন বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার এবং ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক ও আদর্শিক কাঠামো কেমন হবে, তার সব উত্তর আমার কাছে নেই।’ তিনি বলেন, ‘আগামী দুই-তিন মাস নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। এমনকি এনসিপির সঙ্গেও আবার বসতে চাই। আমার এখন পথ ওপেন, আমি সবার সাথেই কথা বলতে চাই।’ এরপর পরিস্থিতি বুঝে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নির্ধারণ করবেন জানিয়ে সামান্তা বলেন, ‘আমি হুট করে কোনোকিছুই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতি না, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হুট করে নিইনি।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স