|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এবার বড় বিক্ষোভের মুখে জার্মানি, একাধিক শহরে ভাঙচুর ও লুটপাট

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
৪১৩ পঠিত
এবার বড় বিক্ষোভের মুখে জার্মানি, একাধিক শহরে ভাঙচুর ও লুটপাট
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বড় ধরনের বিক্ষোভের মুখে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, শিক্ষার মান এবং সরকারি পরিষেবায় কাটছাঁটের প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের তরুণেরা রাস্তায় নামছেন। এবার সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষায় বরাদ্দের ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় সংকো...

বড় ধরনের বিক্ষোভের মুখে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, শিক্ষার মান এবং সরকারি পরিষেবায় কাটছাঁটের প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের তরুণেরা রাস্তায় নামছেন। এবার সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষায় বরাদ্দের ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে জার্মানিতে তরুণদের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফ্রাঙ্কফুর্টসহ দেশটির কয়েকটি শহরে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এ সময় জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি, পাথর ও বোতল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্ট ছাড়াও বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর আগে দিনের বেলায় হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। ‘জেন জি রেগেল্ট’ নামের একটি প্রচারাভিযান গোষ্ঠী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় ‘জেন জি রেগেল্ট’ কথাটির অর্থ ‘জেন জি নিজেরাই দায়িত্ব নেয়’।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন তরুণেরা।

রোববার জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট বিল্ড পত্রিকাকে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্যারিসে যে ধরনের সহিংসতা দেখা গেছে, রাতে পুলিশ তা প্রতিরোধ করেছে। দাঙ্গা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের ‘কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

ফ্রাঙ্কফুর্টে রাতভর সহিংসতার কারণে শহরের প্রধান বিপণিবিতান সড়কের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। শহরটিতে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের এক মুখপাত্র।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল। তবে আয়োজকেরা তাদের ওয়েবসাইটে এর প্রায় দ্বিগুণ মানুষের অংশগ্রহণের অনুমান করেছিলেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক দশ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

‘জেন জি রেগেল্ট’-এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ ও জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও ভালো সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরুদ্ধে এবং দায়িত্বের বোঝা আরও ন্যায্যভাবে বণ্টনের পক্ষে।’

ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট

শনিবার রাতে ফ্রাঙ্কফুর্টের পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থলে ‘সহিংস দাঙ্গা’ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়েছে।

একটি অস্ত্রের দোকানের জানালাও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর দুটি অস্ত্র জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কয়েকটি দোকানে ঢুকে ক্রীড়াজুতা ও অন্যান্য পণ্য লুট করা হয়।

জার্মানির হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক অভিযোগ করেন, ‘বামপন্থি চরমপন্থি হিসেবে স্পষ্টভাবে শনাক্ত প্রায় ১০০ জন’ ফ্রাঙ্কফুর্টের বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। বিক্ষোভের সমাপ্তি যেভাবে হয়েছে, তাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোসেক বলেন, ‘ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলো আমাদের সবার মনে আছে—লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।’

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ভোরের দিকে ফ্রাঙ্কফুর্টে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

অন্যান্য শহরেও সংঘর্ষ

জার্মানির অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কোলনে প্রধান রেলস্টেশনের কাছে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার পাশাপাশি একটি সাইকেলও ছুড়ে মারা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোলনের পুলিশপ্রধান জোহানেস হারমানস বলেন, ‘যেসব তরুণ নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এমন চরমপন্থিদের অনুপ্রবেশ গভীরভাবে দুঃখজনক, যাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু সহিংসতা।’

বার্লিনে দিনের বড় বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় তুলনামূলক ছোট একটি কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ৫৬ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্লিন পুলিশ।

হামবুর্গে কালো পোশাক পরা কিছু বিক্ষোভকারী আতশবাজি ফোটান এবং বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা প্রতিবন্ধকতায় আগুন ধরিয়ে দেন। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটিতে ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

জার্মানিতে সহিংসতার ঘটনা এমন এক দিনে ঘটল, যেদিন ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্স, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, গ্রিস, সার্বিয়া ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে। দেশভেদে দাবিগুলো ভিন্ন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের সুযোগ, শিক্ষার মান এবং সরকারি পরিষেবায় বরাদ্দ কমানোর বিষয়গুলোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে হাজারো পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেন পুলিশ সদস্যরা। তুলুজ, লিওঁ ও মার্সেইয়ে সংঘর্ষের পর ৫০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, পেট্রলবোমার আঘাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পরে দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেন। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকশ দাঙ্গাকারী বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছেন।

ফ্রান্সের বিক্ষোভ আয়োজক ‘ইয়েলো ভেস্টস’ আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই গ্রেনেডের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

এর আগে, গত অক্টোবরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করে ফ্রান্স। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইতালিতেও বিক্ষোভ হয়েছে। রোম ও তুরিনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, পর্তুগালে আবাসনসংকট নিয়ে হাজারো মানুষের মিছিলের পর গড়ে ওঠা নতুন তাঁবুশিবির সরিয়ে দিতে অভিযান চালায় পুলিশ। দেশটিতে বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত একটি বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমেছিলেন।

তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত আইন আবাসনসংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গত এক দশকে পর্তুগালে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

সূত্র: বিবিসি

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স