|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চট্টগ্রামে এরশাদ হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
৪৪৭ পঠিত
চট্টগ্রামে এরশাদ হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার মাইলের মাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এরশাদ হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আল...

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার মাইলের মাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এরশাদ হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় দেন। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন মামলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ হাসেম।

তিনি কালবেলাকে বলেন, তিন আসামি আপন ভাই। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা একসঙ্গে এরশাদকে হত্যা করেন। মামলায় ২৩ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে ঘটনার সময় আসামিদের বয়স বিবেচনায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন এরশাদ। নগরের বন্দর থানার মাইলের মাথা এলাকায় মহিউদ্দিনের গ্যারেজের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইরান ও ইমতিয়াজ তাকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় আরমান ছুরি দিয়ে তার কপাল, ঘাড়, বুক ও পিঠে একাধিক আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় এরশাদ সাবের আহম্মদ ও দিদারের দোকানের সামনে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এরশাদের বাবা মোহাম্মদ রফিক বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় তিন ভাই আরমান (৩০), ইরান (২৩) ও ইমতিয়াজকে (২১)। তারা নগরের ইপিজেড থানার ২ নম্বর মাইলের মাথার মহব্বত মুন্সি বাড়ি এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে। পারিবারিক বিরোধের জেরে পূর্বশত্রুতার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসলাম। ২০১১ সালে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র আরও জানিয়েছে, এরশাদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও সামনে এসেছে। ওই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন লায়লা বেগম, তার স্বামী কবির আহম্মেদ ও ছেলে ওমর ফারুক।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিজ বসতভিটায় হামলার শিকার হন লায়লা ও তার ছেলে ওমর ফারুক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জানুয়ারি মারা যান লায়লা। এ ঘটনায় ইরান ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

পরে ১১ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী ইকোনমিক জোনের ভাবির মোড় এলাকা থেকে ইরানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স