|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ছিনতাইয়ের অভিযোগে কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
৪৫৪ পঠিত
ছিনতাইয়ের অভিযোগে কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর পিকআপে সংঘঠিত হওয়া ছিনতাইয়ের রহস্য উৎঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কৃষক দলের নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি ও থানা পুলিশ। সেইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পুলি...

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর পিকআপে সংঘঠিত হওয়া ছিনতাইয়ের রহস্য উৎঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কৃষক দলের নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি ও থানা পুলিশ। সেইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পুলিশ সুপার কার্য়ালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিন (২৫), কৃষকদল নেতা রামচরনপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) ও মূল পরিকল্পনাকারী ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫)। 

থানা পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বারি মন্ডলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৪) মহাদেবপুর উপজেলায় নাসির মাস্টারের দোকান ভাড়া নিয়ে ভাঙারি ব্যবসা করে আসছেন। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী আব্দুল আলিমের দোকানের ম্যানেজার ও চাচাতো ভাই মজনু মিয়া (৩৫) এবং পিকআপ চালক সোহেল রানা (২৫) বগুড়া থেকে ভাঙারি বিক্রি করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে আসছিল। 

পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে এলে হঠাৎ ওই পিকআপটি নষ্ট হয়। এ সময় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে ড্রাইভার সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে পথচারীরা এসে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মজনুকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

সংবাদ পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এবং এসপির তত্ত্বাবধানে ওই রাতেই মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে যৌথ টিম রাতভর অভিযান শুরু করে। পরে প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যে আসামি শনাক্তের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন করে। এরপর প্রথমে মুন্নাকে তার গ্রামের বাড়ি রামচন্দ্রপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে ছিনতাইকৃত ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। 

এবং গ্রেপ্তার মুন্নার দেওয়া তথ্য মতে অপর আসামি রবিনকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রবিনের বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্য মতে ভুক্তভোগী হওয়া চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই ছিনতাই ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ড্রাইভার সোহেল ও মুন্না এবং ছিনতাই ঘটনায় প্রধান ভূমিকায় রবিন। তারা তিনজনই গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের ঘটনা পরিকল্পনা করছিল। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ বিশেষ করে ছিনতাই এবং ডাকাতি আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স