ছয় পেসার নিয়ে বাংলাদেশের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা
গণমাধ্যম ডেক্স
টনি ডি জর্জি ও আনরিখ নর্কিয়াকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য আজ ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গে ১৫ নভেম্বর শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট।
গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান ডি জর্জি। ডেভিড বেডিংহামকে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে ডি জর্জিকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত শনিবার শেষ হওয়া কেপটাউন টেস্টের প্রোটিয়া স্কোয়াড থেকে বেডিংহামসহ বাদ পড়েছেন চারজন—ডেভিড বেডিংহাম, জেরাল্ড কোয়েৎজি, কাইল ভেরেইনা, সেনরুয়ান মুতুসামি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টে চোট পাওয়া পেসার নর্কিয়া এক ম্যাচ পর ফিরলেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলে। সব মিলিয়ে দলে ছয় পেসার—কাগিসো রাবাদা, মার্কো ইয়ানসেন, উইয়ান মুল্ডার, করবিন বশ, ডেন প্যাটারসন ও নর্কিয়া। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে না ওঠায় ফেরানো হয়নি আরেক পেসার লুঙ্গি এনগিডিকে। তবু এ কজনেই বোঝা যাচ্ছে, চলতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কীসের মুখোমুখি হবেন!

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জায়গা হারানো উইকেটকিপার কাইল ভেরাইনকে ফেরায়নি প্রোটিয়ারা। রায়ান রিকেলটন প্রথম পছন্দ, এর পাশাপাশি রিজার্ভ উইকেটকিপার হিসেবে আছেন ম্যাথু ব্রিটৎজকে। দুজন স্পিনারও আছেন—সাইমন হারমার ও কেশব মহারাজ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকায় পেসবান্ধব উইকেট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই প্রোটিয়া একাদশে বড়জোর একজন স্পিনারকে দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহারাজ ও হারমারের মধ্যে লড়াই হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টেস্টে খেলেছেন হারমার।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে প্রোটিয়াদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে তোলা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা থাকছেন দলের নেতৃত্বে। অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরানো হয়েছে জুবাইর হামজাকে। ব্যাটিং লাইনআপে দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য চমকপ্রদ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ সিরিজে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে রিকেলটনকে নিচে নামিয়ে এইডেন মার্করামের সঙ্গে মার্কেস অ্যাকারম্যানকে ওপেন করতে পাঠানো হয়। অ্যাকারমান এই সিরিজের আগে লাল বলে কখনো ওপেন করেননি। ডি জর্জি ফেরায় বাংলাদেশ সিরিজে তাঁকে ওপেন করতে দেখা যেতে পারে। তিনে নেমে যেতে পারেন অ্যাকারম্যান। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এই পজিশনে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি বেডিংহাম।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলটেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কেস অ্যাকারম্যান, ম্যাথু ব্রিটৎজকে, করবিন বশ, টনি ডি জর্জি, সাইমন হারমার, জুবায়ের হামজা, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুল্ডার, আনরিখ নর্কিয়া, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা ও রায়ান রিকেলটন।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দুই ম্যাচের এ সিরিজে ম্যাচগুলো হবে সুমদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ উঁচুতে (হাইভেল্ড কন্ডিশন) অবস্থিত স্টেডিয়াম জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে। সেখানে পেসাররা সাধারণত বাড়তি সুবিধা পান। প্রোটিয়া কোচ শুকরি কনরাড বাংলাদেশ দলের পেস শক্তি সম্পর্কে জানেন বলেই এমন কন্ডিশনে তাদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সমীহ ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘বাংলাদেশ দল কতটা ভীতি ছড়াতে পারে, তা আমরা জানি এবং হাইভেল্ড কন্ডিশনে তাদের পেসাররাও বেশ কার্যকর হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’
এমন ভেন্যুতে নিজেদের শক্তি নিয়ে কনরাড বলেন, ‘সাধারণত হাইভেল্ড উইকেট পেস ও বাউন্সের জন্য অনুকূল হয়, যদিও ইদানীং ওয়ান্ডারার্সে স্পিনারদেরও কিছুটা সুবিধা পেতে দেখা গেছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের পেস বোলিং বিকল্পগুলোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।’
১১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ক্যাম্প শুরু হবে। ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট।
সূত্র: প্রথম আলো