|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

দুর্নীতিতে জড়ালেই সারের ডিলারের লাইসেন্স বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
২৫০ পঠিত
দুর্নীতিতে জড়ালেই সারের ডিলারের লাইসেন্স বাতিল: কৃষিমন্ত্রী
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সারের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সরকারি শর্ত ভঙ্গ করলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কোনো ডিলার লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (৪ ন...

সারের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সরকারি শর্ত ভঙ্গ করলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কোনো ডিলার লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার, বীজ, সেচ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ সার্বিক কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সার ডিলারদের সতর্ক করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ‘ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।

চলতি মৌসুমে সার বিক্রির দোকান খোলা রাখার সময়ও নির্ধারণ করে দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে সার বিক্রির দোকান খুলতে হবে। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার আগে কোনোভাবেই দোকান বন্ধ করা যাবে না। কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের এসব নির্দেশনা মানতে হবে।

সারের অবৈধ পাচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়। কারণ, প্রতিবেশী দেশগুলোতে এসব সারের দাম তুলনামূলক বেশি। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইউরিয়া এবং ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার পাচারের প্রবণতা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রশাসন, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমিতে পরিমিত ও সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি মাছ চাষে ব্যবহৃত সারের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে মৎস্যচাষিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকেরা স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ।

এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার ডিলার সমিতির নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন। সাত জেলার জেলা প্রশাসকেরা অনলাইনে যুক্ত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সার সরবরাহ পরিস্থিতি ও তদারকির বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। সার সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সভায় বিভিন্ন পরামর্শ দেন ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স