|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে আফগান লিগে আমির, আইপিএলেও কি মিলবে সুযোগ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
১৯৪ পঠিত
ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে আফগান লিগে আমির, আইপিএলেও কি মিলবে সুযোগ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) খেলোয়াড় ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির।

পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ১০ বছর। তবে এখন মোহাম্মদ আমিরের পরিচয় শুধু পাকিস্তানি ক্রিকেটার নয়, ব্রিটিশ নাগরিকও। সেই পরিচয় এবার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে।

৩৪ বছর বয়সী এ বাঁহাতি পেসার আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) খেলোয়াড় ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে। আগামীকাল ৩ নভেম্বর দুবাইয়ে হবে এই ড্রাফট। আমিরকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি প্লাটিনামে।

২০২৬ সালের মে মাসে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন আমির। তবে এপিএল ড্রাফটের নিবন্ধনে তাঁর বসবাসের দেশ যুক্তরাজ্য উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে রয়েছে পাকিস্তান! এই দ্বৈত পরিচয়ই তৈরি করেছে নতুন আলোচনা। ব্রিটিশ পাসপোর্টের কারণে কি আইপিএলেও খেলার সুযোগ পাবেন তিনি?

এর আগে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া আজহার মাহমুদ ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে আইপিএলে খেলেছিলেন। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন মাহমুদ। আমিরের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হবে কি না, জানা যাবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় আইপিএলের মিনি নিলামে।

বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আমির নিয়মিত মুখ

পাকিস্তানের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে ও ৬২টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন আমির। ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লডারহিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার আরেকটি সুবিধাও পেতে পারেন আমির। এপিএলে খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনাপত্তিপত্র বা এনওসি তাঁর প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদের জন্য বিষয়টি এত সহজ নয়।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এপিএলে খেলার অনুমতি পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, হাসান আলী, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, ফাহিম আশরাফ, ইমাদ ওয়াসিমসহ ৩০ জনের বেশি পাকিস্তানি ক্রিকেটার ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন। তবে তাঁদের এনওসি দেওয়া নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারছে না পিসিবি। ক্রিকবাজকে পিসিবির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমার তা মনে হয় না।’

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) প্রকাশিত ড্রাফট তালিকাতেও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ পিসিবির এনওসি পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

পাকিস্তান জাতীয় দলে তারকা হিসেবে বেড়ে উঠেছেন আমির

এবারের ড্রাফটে ভারতীয় ক্রিকেটারদেরও উপস্থিতি আছে। সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কে এস ভরত, অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর ও অফ স্পিনার মুরুগান অশ্বিন নাম লিখিয়েছেন। তিনজনই সব ধরনের ক্রিকেট, আইপিএলসহ, থেকে অবসর নিয়েছেন। বিজয় ও মুরুগান ভারতীয় হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ভরতের বসবাসের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। তিনজনই আছেন গোল্ড ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন ৪৬২ জন ক্রিকেটার।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন ক্রিকেটারও আছেন ড্রাফটে। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উন্মুক্ত চাঁদ, ওমানের আয়ান খান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাহুল চোপড়া, অক্ষদীপ নাথ, আলিশান শারাফু, আরিয়ান আফজাল খান ও ধ্রুব পরাশর, কেনিয়ার ভ্রাজ প্যাটেল এবং কুয়েতের ইয়াসিন প্যাটেল উল্লেখযোগ্য।

ব্রিটিশ পাসপোর্ট আমিরের সামনে নতুন দরজা খুলবে কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে পাকিস্তানের জার্সি তুলে রাখার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন ইনিংস শুরুর প্রস্তুতি যে নিচ্ছেন, প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে জায়গা পাওয়াই তার ইঙ্গিত।

সূত্র: প্রথম আলো