|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ভারতীয় স্ত্রী, কর্ণাটকে শ্বশুরবাড়ি—যুক্তরাষ্ট্রে জিতে আলোচনায় আল-সাইয়েদ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
২৫৭ পঠিত
ভারতীয় স্ত্রী, কর্ণাটকে শ্বশুরবাড়ি—যুক্তরাষ্ট্রে জিতে আলোচনায় আল-সাইয়েদ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল আল-সাইয়েদ। তাঁর স্ত্রী সারা জুকাকু পেশায় একজন মনোরোগ চিকিৎসক। সারার পরিবারের শিকড় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। গুরুত্বপূর্ণ একটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর এ জয়ে আনন্দে মেতেছেন ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে থাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনও। তাঁদের কাছে আল-সাইয়েদ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একজন নবনির্বাচিত সিনেটর নন, তিনি তাঁদের পরিবারেরই একজন ‘কর্ণাটকের জামাই’।

মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান চিকিৎসক আবদুল আল-সাইয়েদ। তাঁর স্ত্রী সারা জুকাকু পেশায় একজন মনোরোগ চিকিৎসক। সারার পরিবারের শিকড় ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আল-সাইয়েদ ও সারার পরিচয় হয়। পরে ২০০৬ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।

সারার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানে। তবে তাঁর আত্মীয়স্বজনের বসবাস এখনো ভারতের কর্ণাটকের ভাটকল শহরে। রাজ্যটির রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে।

সারার কাজিন বিবি হুসনা বলেন, নির্বাচনী প্রচারের উত্তেজনাপূর্ণ সময় থেকে শুরু করে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় আসায় স্বস্তি ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আল্লাহর রহমতে, এটি দারুণ একটি জয় হয়েছে।’

কেরলমের ব্যবসায়ী ও সারার চাচা জুকাকু আবদুল মজিদের কাছে আল-সাইয়েদের এ জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, পারিবারিকভাবেও বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ।

নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আবদুল মজিদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর জয়ের সম্ভাবনা থাকবে, এমনটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। তাঁর এ জয় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।’

আবদুল আল-সাইয়েদ

পরিবারের সদস্যরা আল-সাইয়েদকে ‘কর্ণাটকের জামাই’ বলে ডাকেন। তাঁদের ভাষায়, তিনি খুবই আন্তরিক এবং সহজেই সবার সঙ্গে মিশতে পারেন।

আল-সাইয়েদ ও সারা দম্পতির দুই মেয়ে। এক দশকেরও বেশি আগে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে তাঁরা ভাটকল এসেছিলেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত চার দিন কাটিয়েছিলেন।

সারার কাজিন বিবি হুসনা এনডিটিভিকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারের উত্তেজনাপূর্ণ সময় থেকে শুরু করে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় আসায় স্বস্তি ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আল্লাহর রহমতে, এটি দারুণ একটি জয় হয়েছে।’

নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজের ভারতীয় পারিবারিক পরিচয় নিয়ে মজাও করেছেন আল-সাইয়েদ। দক্ষিণ ভারতীয় এক নারীকে দুই দশক ধরে বিয়ে করে থাকার কারণে তিনি ‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’ হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন। এক পডকাস্টে বলেন, ‘মানুষ আরবদের চেয়ে দেশিদের (দক্ষিণ এশীয়দের) বেশি পছন্দ করে।’

এরপর আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি সম্মানসূচক একজন ভারতীয়। ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যে একধরনের স্থিরতা আছে। ভারতে যাওয়ার পরই বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। সেখানে এক শ কোটির বেশি মানুষ। কোনো কাজই দ্রুত হয় না।’

আগস্টে প্রকাশিত আরেকটি পডকাস্টে নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে একটি মজার স্মৃতির কথা জানান আল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, তাঁর এক চাচা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, মিসরে ৮ কোটি মানুষ থাকতে তিনি কেন একজন ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলেন। জবাবে আল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ‘আমু (চাচা), ভারতে তো এক শ কোটি মানুষ। পরিসংখ্যানের হিসাবে, এমনটা হওয়ার (ভারতে বিয়ের) সম্ভাবনাই বেশি ছিল।’

নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজের ভারতীয় পারিবারিক পরিচয় নিয়ে মজাও করেছেন আল-সাইয়েদ। দক্ষিণ ভারতীয় এক নারীকে দুই দশক ধরে বিয়ে করে থাকার কারণে তিনি ‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয়’ হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন। এক পডকাস্টে বলেন, ‘মানুষ আরবদের চেয়ে দেশিদের (দক্ষিণ এশীয়দের) বেশি পছন্দ করে।’

অন্য এক বক্তব্যে নিজের পরিবারের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি দেশি নারীদের মধ্যে ঘেরা। আমার দুই মেয়ে দেশি, স্ত্রীও দেশি।’

সারার বাবা জুকাকু তাইয়েব বেঙ্গালুরু মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৭৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সারার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন সাবেক মহীশূর রাজ্যের (কর্ণাটক) অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী ছিলেন।

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনেও জিতেছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ডেট্রয়েটে সংবাদ সম্মেলনে। ৫ আগস্ট ২০২৬

নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়েও প্রায়ই কথা বলেন আল-সাইয়েদ। মিসরের খাবার ও রসবোধের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর বাবা ভূমধ্যসাগরীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় বড় হয়েছেন। বাবার বেড়ে ওঠার সেই শহরে গ্রীষ্মকাল কাটানোর স্মৃতিও তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জনস্বাস্থ্য খাতের সাবেক কর্মকর্তা আল-সাইয়েদ নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নির্বাচনে বাইরের অর্থের প্রভাব বন্ধ করা এবং ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা ছিল তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্ব ও ৩ নভেম্বরের নির্বাচন-দুই পর্যায়েই বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয়ের (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থির পক্ষে রিপাবলিকান ও ইসরায়েলি লবির খরচ) মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁর প্রচারশিবিরকে। তবে এসব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।

আল-সাইয়েদের এ জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানো প্রার্থীরাও জয়ী হতে পারেন—এই ফল সে সম্ভাবনার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটারদের সমর্থন আদায়ে আল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচারে নেমেছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতারাও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তাঁরা আল-সাইয়েদের সঙ্গে প্রচার চালিয়ে ভোটারদের তাঁর পক্ষে সংগঠিত করতে সহায়তা করেন।

সূত্র: প্রথম আলো