মজুরি বোর্ড গঠনকে বিজয় হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারা, বুধবার থেকে কারখানায় ফেরার অনুরোধ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনকে শ্রমিকদের আন...
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনকে শ্রমিকদের আন্দোলনের একটি অর্জন ও বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে এ বোর্ডের ওপর আস্থা রাখারও আহ্বান জানান নেতারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ৩৫টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘শ্রমিক মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ, গাজীপুর’-এর নেতারা।
চার দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার করণীয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি তমিজ উদ্দিন তনু বলেন, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখা শ্রমিক ও মালিক- উভয় পক্ষের স্বার্থেই জরুরি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে পুঁজি করে কোনো কুচক্রী মহল বা বহিরাগত যেন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া যারা শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফিরে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিউল আলম বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বোর্ডের ওপর আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অযথা মামলা, গ্রেপ্তার বা দমন-পীড়ন না চালিয়ে তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।
নেতারা বলেন, শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই; বহিরাগত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা এসব অপকর্মে জড়িত। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। তাই বহিরাগতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসা শ্রমিকদের বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধও জানান শ্রমিক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- পোশাক শিল্প শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের গাজীপুর জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মিয়া, বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি মো. আবুল হোসেন জুয়েল, জাতীয় কারিগর ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া পারভীন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের গাজীপুর জেলার সহসভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহসভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম এবং জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এদিকে, মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়, নাওজোড়সহ জেলার কয়েকটি স্থানে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এসব স্থানে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধার মুখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন।
এ সময় তারা সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। সরকার শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে একটি পলাতক কুচক্রী মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে নাশকতা ও সহিংসতার কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সূত্র: কালবেলা