|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউই পাস করেননি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
২৬৬ পঠিত
ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউই পাস করেননি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ বিভাগের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠনগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৭টি, জামালপুরে ৪টি, নেত্রকোনায় ৬টি এবং শেরপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে,...

এইচএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ বিভাগের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠনগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৭টি, জামালপুরে ৪টি, নেত্রকোনায় ৬টি এবং শেরপুরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ময়মনসিংহ জেলার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আদর্শ হাইস্কুল, ঈশ্বরগঞ্জের কোণাপাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চরজিথার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইলের বারিল্লা কে এ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজ, তারাকান্দা এইচ এ ডিজিটাল কলেজ এবং আউলিয়ানগর কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ২, ৬, ১, ১, ২, ২৬ ও ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

জামালপুর জেলার ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো- ইসলামপুরের গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুর সদরের শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম গার্লস স্কুল, মাদারগঞ্জের নয়াচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মেলান্দহের এস এম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ৭, ৬, ৪ ও ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

নেত্রকোণা জেলার ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ, পূর্বধলার খালিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অ্যাম্বিশন মডেল কলেজ, জোবাইদা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ এবং নেত্রকোনা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য-সংশ্লিষ্ট একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ১, ৪, ১৬, ৬, ২ ও ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, শেরপুর জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো- ঝিনাইগাতীর আলহাজ্ব এস এম এ ওয়ারেজ নঈম মডেল কলেজ এবং শেরপুর সদরের মনমথ দে কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে ১ ও সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শতকরা ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এতে মোট পাসকৃত শিক্ষার্থীর সংখ‍্যা ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। ৩১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭০ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী ১১৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কলেজগুলোকেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করা যেতে পারে। ছয় মাস বা এক বছর পরপর শিক্ষার্থীদের যে মূল্যায়ন করা হয়, সেখানে কেউ খারাপ ফল করলে তার অভিভাবককে বিষয়টি জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় জন ডিউই ও থর্নডাইকের মতো শিক্ষাবিদদের তত্ত্বে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশেও উদ্দীপনাভিত্তিক সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক শিক্ষকই এই পদ্ধতির বিষয়বস্তু ও প্রয়োগ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পাননি। ফলে শিক্ষার্থীরাও অনেক ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না। প্রশ্নপত্রে কোনো ছবি বা উদ্দীপক দেখে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পূর্বপ্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে প্রকৃত সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠ্যক্রম ও প্রশ্নপদ্ধতি অবশ্যই সমাজের বাস্তবতা এবং সামাজিক বিবর্তনের বর্তমান স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের বয়স, মেধা, পরিবেশ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে পাঠ্যক্রম ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। উদ্দীপক এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবন করে জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সঠিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তাহলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদত উল্লাহ জানান, যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন তাদের অধিকাংশই গণিত, ইংরেজি এবং হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে পাস করতে পারেননি। তবে এসব শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. এনামুল হক বলেন, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার অধিকাংশই সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 

আমরা আশা করছি, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এবারের পরীক্ষায় কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কেন এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম, তা যাচাই-বাছাই করে কারণগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান সন্তোষজনক। ফলাফলের বিভিন্ন সূচকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স