৫৫০ শয্যার অবকাঠামোয় চলছে ১২০০ শয্যার হাসপাতাল, সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দীর্ঘদিনের জনবল, অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সংস্কার, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শুরু হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ...
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দীর্ঘদিনের জনবল, অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সংস্কার, চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শুরু হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে এ সম্প্রসারণ ও সংস্কারকাজের সূচনা হবে। পাশাপাশি ১২০০ শয্যার সঙ্গে ১০০টি আইসিইউ বেডের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ, রোগীর চাপ, অবকাঠামো ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরপর তিনবার দেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সীমিত জনবল ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
হাসপাতালের প্রধান সংকট হিসেবে জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে হাসপাতালটি ৫৫০ শয্যা থেকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হয়নি। ফলে ৫৫০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়েই বর্তমানে অনেক বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাসপাতালের সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শতাংশ রোগীর চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়, দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, চলতি বছরের শেষ দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও সংস্কারকাজ শুরু হবে। আগামী বছরের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, পদ্মা নদীসহ উত্তরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতায় এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব তুলনামূলক বেশি। ফলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিনিয়ত সাপে কাটা রোগী আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ সংকট দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় আরও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বর্তমানে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানানো হয়েছে। তবে হাসপাতালের রোগীর চাপ স্বাভাবিক সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় কোনো কোনো সময় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সেই ঘাটতি পূরণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ সময় তিনি আরও জানান, দেশের পাঁচটি স্থানে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নার্স মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য জনবলের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স