|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে কোন দল থেকে কারা থাকতে পারেন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম
৩২০ পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে কোন দল থেকে কারা থাকতে পারেন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দুই দলই এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেনি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালের ৭ নভেম্বর। তবে গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই দুই প্রধান দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি থেকে কারা প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কারা আলোচনায় এগিয়ে এবং এর কারণ কী, তা নিয়েই এই বিশ্লেষণ।

যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এতে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে। দেশটির ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোন অঙ্গরাজ্যগুলো জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেই হিসাবও পাল্টে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভালো করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত ইলেকটোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। জিততে প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল ডেমোক্র্যাটদের সামনে সেই সংখ্যায় পৌঁছানোর নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ দেখা গেছে। তাই এখন রিপাবলিকানদের সামনে প্রশ্ন, মাগা বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন আন্দোলনের ভোটারদের কি আবার এক ছাতার নিচে আনা যাবে, নাকি দলকে নতুন পথে ও কৌশলে পরিচালিত করতে হবে?

দুই দলের কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু করেনি। তবে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই কেউ কেউ মাঠে নেমে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান কেমন, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

ডেমোক্র্যাট শিবির

জশ শ্যাপিরো: মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে সবচেয়ে খুশি হওয়ার কথা পেনসিলভানিয়ার এই গভর্নরের। ২০ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে তিনি আবার গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর অঙ্গরাজ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের চারটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেনসিলভানিয়া দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য। সেখানে বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে শ্যাপিরোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। এত দিন প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা এড়িয়ে গেছেন তিনি। এবার সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হবে।

গ্যাভিন নিউসম: টেক্সাস গত বছর প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়াতেও আসনের সীমানা বদলের উদ্যোগ নেন গভর্নর নিউসম। এ জন্য পুরো অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের অনুমোদন নিতে হয়েছে। ওই পদক্ষেপ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

বক্তব্য দিচ্ছেন পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জশ শ্যাপিরো। অঙ্গরাজ্যের বেথলেহেমে এক অনুষ্ঠানে, ২৬ জুলাই ২০২৬ সালে

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি পাঁচ আসনের কৃতিত্বও দাবি করতে পারেন নিউসম। গভর্নর হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষের পথে। এর মধ্যেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৫৪৮ জনের সবার সাজা কমাবেন। এ সিদ্ধান্তে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে নিউসমের অবস্থান ট্রাম্পের অবস্থান থেকে যে আলাদা, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

রাফায়েল ওয়ার্নক: জর্জিয়ার এই ডেমোক্র্যাট সিনেটর একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকও। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন যদি ডেমোক্র্যাটদের জয়ের নতুন পথ খুলে দেয়, তাহলে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে পারবেন তিনি। দলের জয়ের পরিসর বাড়াতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নানা জায়গায় প্রচার চালিয়েছেন ওয়ার্নক।

ভোটের ফল বলছে, ওয়ার্নকের সেই চেষ্টা কাজে এসেছে। নির্বাচনের আগে সিএনএনকে তিনি বলেন, ২০২৮ সালে একটি ‘উচ্চ পদে’ লড়বেন। তবে তিনি আবার সিনেটের ভোটে দাঁড়াবেন, নাকি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন, তা স্পষ্ট করেননি।

পিট বুটিগেগ: ডেমোক্র্যাটদের পুরোনো ভোটারদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের যেসব এলাকায় এখন দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে, সেখানকার ভোটারদের কাছেও পৌঁছাতে পারেন বুটিগেগ। ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড শহরের সাবেক মেয়র ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তিনি সামনে আনতে পারেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৩৮টি অঙ্গরাজ্য ঘুরে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার করেছেন। এতে দলের ভেতরেও তাঁর সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৬ সালের ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেফ্লাওয়ার হোটেলে সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে অপেক্ষা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম

জেবি প্রিৎসকার: ইলিনয়ের গভর্নর পদে সহজেই আবার জিতেছেন তিনি। তবে জাতীয় রাজনীতির জন্য বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তাঁর নির্বাচনী অনুদান। যেসব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্থের জোগান ফল বদলে দিতে পারে, সেগুলো বেছে নিয়েছেন প্রিৎসকার। যেমন টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসার যখন অর্থের খুব প্রয়োজন ছিল, তখন তিনি সহায়তা দিয়েছেন। ফলাফলে সেই সিদ্ধান্তের সুফল মিলেছে।

অ্যান্ডি বেশিয়ার: রিপাবলিকানদের ঘাঁটি কেন্টাকির ডেমোক্র্যাট গভর্নর তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশন ওহাইও, আইওয়া, কানসাস ও টেক্সাসে দলীয় প্রার্থীদের গভর্নর পদে জিততে সহায়তা করেছে। তবে টেক্সাসের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, জিনা হিনোহোসার জন্য যথেষ্ট করেননি বেশিয়ার।

রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেমোক্র্যাট অ্যান্ডি বেশিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন। বেশিয়ারের নিজের অঙ্গরাজ্য কেন্টাকিতে প্রতিনিধি পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন দখল করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে সিনেটের আসনটি ধরে রেখেছেন রিপাবলিকানরা। এবারের ভোটের বড় বার্তা যদি হয় মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরাও জিততে পারেন, তাহলে বেশিয়ার সুবিধা পাবেন। নির্বাচনের পরদিন সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘সবকিছুকে ডেমোক্র্যাট বনাম রিপাবলিকান—আমরা বনাম তারা হিসেবে দেখা যায় না।’

মার্কিন সিনেট নির্বাচনের রানঅফ (দ্বিতীয় দফার) ভোট গ্রহণের দিনে তরুণ প্রচারকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাফায়েল ওয়ার্নক। জর্জিয়ার মারিয়াতায়, ৫ জানুয়ারি ২০২১

কমলা হ্যারিস: সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে দেখলে অনেক ডেমোক্র্যাটের ২০২৪ সালের হারের কথা মনে পড়তে পারে। আবার লড়তে চাইলে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে সমর্থকদের উৎসাহিত করার উপায় বের করতে হবে তাঁকে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারের জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন হ্যারিস।

মিসিসিপিতে স্কট কলমের জয়ের সম্ভাবনা যখন কম বলে মনে হচ্ছিল, তখনই তাঁর সমাবেশে গিয়েছিলেন কমলা হ্যারিস। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষেও প্রচার করেন হ্যারিস। দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদের সমর্থন কম ছিল। তবে মূল ভোটের দিন তাঁরা আল–সাইয়েদকেই সমর্থন দিয়েছেন।

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ: নিউইয়র্কের এই কংগ্রেস সদস্যের মতো পরিচিত নেতা বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে খুব কম আছেন। দলের প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের সঙ্গে সমাবেশ করেছেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ওকাসিও-কর্টেজ কিছু বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের চেয়ে নমনীয় করেছেন। এবারের ভোটে রিপাবলিকানদের ঘাঁটিতে মধ্যপন্থীদের জয় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সাহায্য করেছে। সে কারণে তাঁর অবস্থানের এই পরিবর্তনও তাৎপর্যপূর্ণ।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল–সাইয়েদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। মিশিগানের ডেট্রয়েটে। ১৮ জুলাই ২০২৬

জন অসফ: অনেকে তাঁকে নতুন ‘বারাক ওবামা’ বলে আখ্যায়িত করছেন। জর্জিয়া থেকে আবার সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট। প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার আগ্রহ নেই—এ কথা তিনি বারবার জানিয়েছেন। তবে দক্ষিণাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামবে না। বারাক ওবামার মতো তিনিও একসময় মত বদলে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর। ফলে অসফের সিনেট আসন খালি হলে সেখানে একজন ডেমোক্র্যাটকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

রাম ইমানুয়েল: সাবেক এই রাষ্ট্রদূত শিকাগোর মেয়র ছিলেন। বারাক ওবামার হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। ইদানীং টেলিভিশনে তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মধ্যপন্থী নীতি ও বাস্তব ফলাফলের ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। সম্ভাব্য অন্য কয়েকজন প্রার্থী বয়সে তাঁর চেয়ে তরুণ। প্রচারেও তাঁদের কেউ কেউ বেশি মানুষ টানতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইমানুয়েল নিজের বক্তব্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সময় দিচ্ছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

রিপাবলিকান শিবির

জেডি ভ্যান্স: রিপাবলিকানদের বড় হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। দলের বিপর্যয়কর ফলের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেন।

ভ্যান্সের যুক্তিমতে, ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করা যাবে না। এভাবে তাঁকেই যুদ্ধ শেষ করার উপায় খুঁজতে হবে। তাহলেই যাঁদের তিনি ‘ট্রাম্প–ভ্যান্স’ ভোটার বলেছেন, তাঁদের আবার একজোট করার সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ভ্যান্স এখনো এগিয়ে আছেন। তবে এই কাজ এতটা সহজ হবে না।

রন ডিস্যান্টিস: ডেমোক্র্যাটদের নীল ঢেউয়ের মধ্যেও ফ্লোরিডায় নিজেদের ঘাঁটি ধরে রেখেছেন রিপাবলিকানরা। জেক ট্যাপারকে গভর্নর ডিস্যান্টিস বলেন, ফ্লোরিডাতেও হারলে দলের জন্য ফল আরও ভয়াবহ হতে পারত। ব্যবধান কম ছিল, তবে অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেটর ও গভর্নর—দুই পদেই জিতেছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। নিউসমের মতো ডিস্যান্টিসও জানুয়ারিতে গভর্নরের পদ ছাড়বেন। তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অবশ্য ফুরায়নি।

মার্কো রুবিও: ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকটি নির্বাচনী সমাবেশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও। দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের জন্য দলীয় প্রচারে বেশি সময় দেওয়া কিছুটা অস্বস্তিকর হতো। প্রচারে সীমিত উপস্থিতির কারণে ভ্যান্সের মতো তাঁকে এবারের হারের সঙ্গে ততটা জড়িয়ে দেখা হবে না।

রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে রুবিও জনপ্রিয়তা আছে। কানসাসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, রুবিও ‘বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন’। এরপর তাঁকে বরখাস্ত করার কথা বলে রসিকতা করেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে হলে রুবিওকে প্রশাসন ছাড়তে হবে। সম্ভবত ভ্যান্সের সঙ্গেও রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি করতে হবে।

টেড ক্রুজ: রুবিও ও ডিস্যান্টিসের ফ্লোরিডা ডেমোক্র্যাটদের নীল ঢেউ সামলেছেন। টেড ক্রুজের টেক্সাসে সেই ঢেউ এসে পড়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক জায়গায় দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার করেছেন এই সিনেটর। তাঁদের অনেকে হেরেছেন। ফলে ক্রুজ প্রেসিডেন্ট পদে লড়লে পদে থাকা রিপাবলিকান নেতাদের পাশে তেমন একটা পাবেন না।

পিট হেগসেথ: বিতর্কিত এ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অভিশংসনের কথা শোনা যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার চূড়ান্ত ফল দেখা যাবে। কিছু রিপাবলিকানও তাতে সমর্থন দিতে পারেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে আয়োজিত সমাবেশে মঞ্চে উঠছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

হেগসেথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের হারের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তেমন একটা উজ্জ্বল নয়।

ভোটের ফল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, মার্কিনরা এমন মধ্যপন্থী নেতাদের চান, যাঁরা একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেন। তাঁদের সমর্থন পেতে হেগসেথকে নিজের ভাবমূর্তি আমূল বদলাতে হবে।

সারা হাকাবি স্যান্ডার্স: আরকানসাসের গভর্নর ও হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব স্যান্ডার্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে সহজে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পক্ষে তাঁরও যুক্তি আছে। তাঁর বাবা মাইক হাকাবিও আরকানসাসের গভর্নর ছিলেন। তিনি এখন ইসরায়েলে ট্রাম্পের রাষ্ট্রদূত। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে মাইক হাকাবি আইওয়ায় দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রথম দিকের ভোটে ভালো করেছিলেন।

টাকার কার্লসন: ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠেছে—এ কথা ভ্যান্স এখন প্রকাশ্যে বলছেন। কিন্তু রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার কার্লসন শুরু থেকে এ কথা বলে আসছেন। দুই প্রধান দলের বাইরে থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়েরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এমন প্রার্থীর চমক সৃষ্টি করার মতো সম্ভাবনা কম। তবে তিনি মাঠে নামলে ট্রাম্পের মাগা শিবিরে যে বিভাজন বাড়ছে, তা আরও গভীর হতে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো