|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় আলোকিত হবে বরিশাল মহাশ্মশান

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
২৯৬ পঠিত
সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় আলোকিত হবে বরিশাল মহাশ্মশান
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান দীপাবলি উৎসব শনিবার (৭ নভেম্বর)। সন্ধ্যা নামতেই হাজারো মোমবাতি আর প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান। প্রিয়জনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন দেশের দেশ এবং প্রবাস থেকে আসা স্বজনরা। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পূণ্যতিথিতে বরিশাল মহাশ্মশান...

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান দীপাবলি উৎসব শনিবার (৭ নভেম্বর)। সন্ধ্যা নামতেই হাজারো মোমবাতি আর প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান। প্রিয়জনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন দেশের দেশ এবং প্রবাস থেকে আসা স্বজনরা।

প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পূণ্যতিথিতে বরিশাল মহাশ্মশানে দীপাবলি উৎসব আয়োজন করা হয়। এবারও দীপাবলি উৎসব ঘিরে সাজানো হয়েছে কাউনিয়া মহাশ্মশান। কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দ দাশ গুপ্ত, বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, নারী নেত্রী মনোরমা বসু মাসীমা, বামপন্থি নেতা হিরণলাল ভট্টাচার্য, কংগ্রেস নেতা শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, নারী নেত্রী রানী ভট্টাচার্যসহ অনেক গুণী মানুষের স্মৃতিচিহ্ন এই মহাশ্মশানে সংরক্ষিত রয়েছে। 

২০১২ সালে ভারতের কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে মাটি এনে এখানে সংরক্ষণ করা হয় অশ্বিনীকুমার দত্তের স্মৃতি। তার স্মারক সমাধি ও ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে মহাশ্মশানে। আদি শ্মশানে রয়েছে ব্রাহ্ম অনুসারীদের সমাধি।

এরই মধ্যে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো এই শ্মশানে প্রিয়জনদের সমাধি ধোয়া-মোছার কাজ শেষ হয়েছে। রং-তুলির কাজও শেষ হয়েছে শুক্রবার রাতের মধ্যেই। শ্মশানের ভেতর এবং বাইরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় আবারও আয়োজন করা হয়েছে মেলা।

শ্মশান রক্ষা কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, এ বছরের দীপাবলি উৎসবে দেড় লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। শ্মশানজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরেজমিনে কাউনিয়া মহাশ্মশানে দেখা যায়, ‘মৃত স্বজনদের সমাধি ধোয়া-মোছা, পরিষ্কার ও রং করার কাজ শেষ হয়েছে। শ্মশান রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে শশ্মানের ভেতরের সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বেওয়ারিশ এবং যাদের স্বজন নেই তাদের সমাধি কমিটির পক্ষ থেকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। দীপাবলি উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলনও করা হবে পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮০১ সালের ১ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জন শ্যোর বাকেরগঞ্জ থেকে জেলার সদর দপ্তর বর্তমান বরিশালে স্থানান্তর করেন। প্রশাসনিক ও নগরকেন্দ্রিক জনবসতি গড়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় নতুন বাজার এলাকায় জেলখাল সংলগ্ন স্থানে প্রথম মহাশ্মশানের যাত্রা শুরু হয়। সেখানে সমাধির সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরবর্তী সময়ে কাউনিয়া এলাকায় গড়ে ওঠে বর্তমান মহাশ্মশান। ১৮৭৬ সালে বরিশাল পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর মহাশ্মশানটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

শ্মশান রক্ষা কমিটির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমিতে থাকা বরিশাল মহাশ্মশানে কাঁচা-পাকা মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার সমাধি রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৯শ সমাধি রয়েছে, যাদের স্বজনরা এ দেশে থাকেন না। এর বাইরে অজ্ঞাত ব্যক্তির সমাধি রয়েছে ৯শ। এসব সমাধি হলুদ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বরিশাল মহাশ্মশান দীপাবলি ও কালীপূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিজয় ভক্ত বলেন, ‘ভূত চতুর্দশীর পূণ্যতিথিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও আয়োজন করা হয়েছে দীপাবলি উৎসবের। শ্মশানে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রিয়জনের সমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করাই শ্মশান দীপাবলীর প্রধান উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের সমাধিতে দেওয়া হয় তার প্রিয় খাবার ও পছন্দের সামগ্রীও। সমাধি প্রাঙ্গণ সাজানো হয় ফুল দিয়ে।’

বিজয় বলেন, ১৯২৭ সাল থেকে বরিশাল মহাশ্মশানে ধারাবাহিকভাবে দীপাবলি উৎসব আড়ম্বর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ উপমহাদেশ এবং বাইরের অনেক দেশ থেকে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে এখানে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে অনেকেই এসেছেন। তারা হোটেল ও আত্মীয়স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন।

সেই দিকটি মাথায় রেখে আগত মানুষদের নিরাপত্তায় শ্মশানের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। এর বাইরে পুলিশ, এসআরবিসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স