|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ: ওসির গাড়িতে আগুন, ৩ শ্রমিক নেতা আটক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
২৩৭ পঠিত
সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ: ওসির গাড়িতে আগুন, ৩ শ্রমিক নেতা আটক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের একট...

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম, ঢাকা জেলা উত্তরের ওসি সাইদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

একই এলাকায় আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। অন্যদিকে, আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার অভিযোগে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইর সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় দুই পাশ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক একসঙ্গে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ প্রতিরোধ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তাদের হামলায় ওসি গুরুতর আহত হন।

হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মীরা:

শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন- কালবেলা পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন কবিরের সহযোগী আনাস বিন তাহের, স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন ও তার সহযোগী উজ্জ্বল হোসেন, নিউজ ২৪ টিভির সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা ও তার সহযোগী ইমদাদুল হক, যমুনা টিভির ভিজে কাজী শহীদুল্লাহ তনয়, দৈনিক দেশের কথার সাভার প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ, একুশে বাংলার ঢাকা জেলা উত্তরের প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান, বাংলা টিভি ডিজিটালের আশুলিয়া প্রতিনিধি শফি সুমনসহ আরও কয়েকজন।

আহতদের ভাষ্য, বুধবার সকালে হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় তারা আহত হন।

মহাসড়কে যান চলাচল শুরু, উলাইলেও বিক্ষোভ:

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। প্রায় একই সময়ে সাভারের উলাইল এলাকায়ও মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানাসহ আশপাশের পোশাক কারখানাগুলোতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় পুলিশের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সকাল ১০টার পর একাধিক স্থানে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকাল ৮টার পর থেকে ওই এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার অভিযোগে মঙ্গলবার তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আটককৃতরা হলেন- জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিম (৩৭), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)। তাদের মধ্যে হালিমকে আশুলিয়ার বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট এলাকা থেকে এবং বাকি দুজনকে জিরাবো এলাকা থেকে আটক করা হয়।

ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।  

তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি দ্রুত তাদের মুক্তির দাবি জানান।

খায়রুল মামুন বলেন, সংলাপের পথ বেছে না নিয়ে গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলা কোনো সমাধানের পথ নয়। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের আরও উসকে দেবে। শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তিনি তিন শ্রমিক নেতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দাবি জানান।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স