সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
গণমাধ্যম ডেক্স
আভাস থাকলেও কমছে না গরমের দাপট। ৩৯-৪০টা জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। তপ্ত রোদে, মাঠে-ঘাটে কৃষক ও কৃষ্টিসংশ্লিষ্টদের মাঝে আলোচনার কমন সাবজেক্ট। নানা কথামালা। যার মন যা চায় বলে যাচ্ছেন। এর মাঝে তথ্য সামান্য, বাকিটা শোনা কথা। কিচ্ছায় ভরা। কিন্তু, আলোচনায় বক্তা-শ্রোতা অনেক। এটাই বাস্তবতা। কারণ সার সামান্য দুই অক্ষরের শব্দ হলেও কৃষিপ্রধান দেশটিতে এর তেজস্ক্রিয়তা মারাত্মক। এখানে সার যত না কৃষি উৎপাদনের উপকরণ, তার চেয়েও বেশি রাজনীতির উপাদান-অনুষজ্ঞ। টোকা দিলেই বাজে।
রাজনীতির ময়দান গরম হওয়ার এ আইটেম নিয়ে ক্ষমতার মসনদ উথাল-পাথাল করে দেওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে রয়েছে। রাজনীতির হাল ময়দানেও সার নিয়ে ঘটনা ও কথার গদ্য-পদ্যের কচলানি মারাত্মক পর্যায়ে। তথ্য লুকানো বা অস্বীকারে সুযোগ নেই যে, সার নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের মাঝে মৌসুমের শুরুতেই একটা ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে সার উৎপাদন এবং আমদানি দুইভাবে চাহিদা পূরণ করে। দেশে সারের চাহিদা পূরণ করতে সরকার পর্যাপ্ত আমদানি এবং মজুত গড়ে তুলেছে। সরকার যে এ ব্যাপারে সজাগতা দৃশ্যমান। সমান্তরালে কৃষি উৎপাদন ও মুনাফার অনিশ্চয়তা বেশ প্রচারিত। এ নিয়ে কৃষকদের চটানো এবং একে রাজনীতির ইস্যু বানানোর চেষ্টা বেশ লক্ষনীয়। এর বিপরীতে সরকারি পর্যায়ের রেসপন্সও স্পষ্ট। সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সংসদীয় কমিটি গঠন হয়েছে দ্রুত। তারা কাজও শুরু করেছে। সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সার বিতরণ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের এ কমিটি সার বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং তা নিরসনে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন করবে। সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশটি চমৎকার হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে এখনো ডিলারশিপের চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পাদন স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলায় ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভেতরের তথ্য হচ্ছে বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। সার কারখানাগুলো পূর্ণোদ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সার রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। এরপরও কেন হাহাকার-এর নেপথ্য খোঁজা দরকার আছে।
সার বিষয়ক তথ্য হালনাগাদ ও আপডেট রাখতে হবে। আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪,৮২,২০০ টন, টিএসপি ৩,৬৯,০০০ টন, ডিএপি ৩,৬৮,০০০ টন এবং এমওপি ১,৪৬,০০০ টন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার বেশি মজুত রয়েছে। মজুদ ছাড়াও আরও প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির পর্যায়ে রয়েছে। গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকা সত্ত্বেও ডিলারদের কেউ কেউ বরাদ্দকৃত সার সময়মতো উত্তোলন না করায় কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা বা সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের দিক থেকে এটি নিবিড়ভাবে মনিটরিং এবং কঠোর নির্দেশনা রাখতেই হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না- চিনি, লবণ, সার, আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, তেলসহ কিছু পণ্য বাংলাদেশে যত না পণ্য; তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক উপাদান। সময়ে সময়ে এগুলো ফায়ার করা হয়। ফায়ারিং যত কড়া, অ্যাকশন তত চড়া। রাজনৈতিক মুনাফা নিশ্চিত। লবণ কেলেঙ্কারি আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতা আমির হোসেন আমুকে কাবু করেছে বছরের পর বছর। এরশাদের দল ভুগেছে চিনিতে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কাজী জাফর আহমদ ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরে উপপ্রধানমন্ত্রী। ‘চিনি কেলেঙ্কার’ তার রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে আলোচিত ও কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ হিসেবে বিদেশ থেকে পাঠানো চিনির চালান আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তাকে ‘চিনি জাফর’ নামে পরিচিতি দেয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে সেই গাল শুনতে হয়েছে। আর বিএনপি দফায় দফায় ভুগেছে সারে। ঘটনাচক্রে তা আবারো। দেশজুড়ে সারের নতুন ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ পেতে বসেছে। বিরোধী দল ছেড়ে কথা বলছে না। বিএনপিকে ঘায়েল করছে যতটুকু পারছে। জামায়াত-এনসিপির অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ও টাকা বিনিময়ে সারের ডিলার নিয়োগের। ঐতিহাসিকভাবে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে চালের পাশাপাশি এই লবণ কেলেঙ্কারি ও মজুতদারির অভিযোগটি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় রাজনৈতিক সমালোচনা ও বিতর্কের ইস্যু হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগের লবণ কেলেঙ্কারি মূলত ১৯৭৪ সালের কৃত্রিম লবণ সংকট এবং এর সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ঘিরে। স্বাধীনতার পর ৭৪ সালে বাংলাদেশে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। জনমনে এর তীব্র প্রভাব পড়ে। লবণের সেই আকালে তখন মানুষ রান্নায় লবণের বিকল্প হিসেবে নারিকেল গাছের ডোগার রস ব্যবহার করে। লবণের ওই সংকট ও কালোবাজারির পেছনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুকে নিয়ে নানা মিথ এখনো কেউ একটু উস্কানি দিলেই বেজে ওঠে। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমু গ্রেপ্তার হন। তার গ্রেপ্তারের পর ঝালকাঠিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা ব্যঙ্গাত্মক আয়োজন করে, যেখানে পথচারীরা আমুকে ‘লবণ চোর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাদের এক কেজি করে লবণ উপহার দেওয়া হয়। এক সময় দেশে লবণের চাহিদার বড় অংশ উৎপাদন হতো ঝালকাঠিতে। ১৯৭৪ সালের দিকে দেশে লবণের আকাল দেখা দিলে দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। রান্নায় নারিকেল গাছের ডোগার রস দিয়ে লবণের চাহিদা মেটাত অভাবী মানুষ। তখন এই পরিস্থিতির জন্য আমুকে দায়ী করে সাধারণ মানুষ তাকে ‘লবণ চোর’ ডাকা শুরু করে, যা পরে তার ভোটের রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে আমুর নির্বাচনী জনসভায় প্রতিপক্ষের সমর্থকরা বাঁশের কঞ্চির মাথায় লবণের পোঁটলা বেঁধে তাকে ভর্ৎসনা জানাত।
আমু টুঙ্গিপাড়া শেখবাড়ির বঙ্গবন্ধুর নিকটাত্মীয়কে বিয়ে করেছেন। এ সুবাদে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফা। আমু নিঃসন্তান; স্ত্রী মারা গেছেন। ভাইবোনও নেই। সে হিসেবে তার মৃত্যুর পর কোনো উত্তরসূরি থাকবে না। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন তার বাসা লুটপাটের পর নগদ ৫ কোটি টাকা পাওয়া যায়। এ খবরেও ঝালকাঠি শহরে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়েছে। আমুর দল আওয়ামী লীগ সুযোগ পেলেই সার প্রশ্নে পচিয়েছে বিএনপিকে। এই সমালোচনার মূল ভিত্তি হলো ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় দেশে তীব্র সার সংকট এবং এর প্রতিবাদে কৃষকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলির ঘটনা। ১৯৯৫ সালের মার্চ-এপ্রিলে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ জন কৃষক নিহত হন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির জন্য নেতিবাচক রেকর্ড হিসেবে থেকে যায়। বিএনপির ২০০১-২০০৬ মেয়াদের শেষের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুৎ ও সারের দাবিতে কৃষকরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। সেখানেও পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের প্রাণহানি হয়।
আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় নিয়মিতভাবে বিএনপির এই ‘সারের রেকর্ড’ মনে করিয়ে দিত। ঘটনার পরম্পরায় গত কিছুদিন সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। কোনো কোনো জেলায় নতুন ডিলারের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। সার আমদানির ভর্তুকির টাকা নিয়ে কিছু কথাবার্তা হচ্ছে। বিএডিসির কাছে সরকারের ভর্তুকি বকেয়ার পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে ব্যাংকগুলোর কাছে বিএডিসির দায় ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিএডিসির এক চিঠিতে সরকারের কাছে ভর্তুকির পাওনা এবং ব্যাংক দায়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিএডিসির নথি অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে বকেয়া ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে নতুন করে এলসি খোলার অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগে সময়মতো সার আমদানি, খালাস ও বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। তার মানে বড় রকমের সমস্যা একটা চিহ্নিত হয়েছে। কেবল সার কেনার অনুমোদন দিলেই সরবরাহ নিশ্চিত হয় না। আমদানির অর্থায়ন, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ এবং বন্দর থেকে গুদাম ও মাঠ পর্যায়ে সার পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সচল রাখতে হয়। তাই বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির এই সময় ভর্তুকির বকেয়া পরিশোধ ও ব্যাংক দায় সমন্বয় জরুরি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে বিএডিসির মোট ব্যাংক দায় ছিল ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে চলমান ঋণপত্র (এলসি) দায় পাঁচ হাজার ৯৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং এলটিআর দায় ১৬ হাজার ৭৬৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে বিএডিসির সবচেয়ে বেশি দায় সোনালী ব্যাংকের কাছে। ব্যাংকটির ২৫ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টি সীমার বিপরীতে বিএডিসির মোট দায় ১৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলসি দায় চার হাজার ২৫৮ কোটি টাকা এবং এলটিআর দায় ১৪ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটিতে গ্যারান্টির অব্যবহৃত সীমা রয়েছে ছয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকে বিএডিসির মোট দায় এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলটিআর দায় এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংকে মোট দায় এক হাজার ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে এলটিআর দায় ৩৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রাইম ব্যাংকে মোট দায় ৬৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে এলটিআর দায় ৬৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কৃষি ব্যাংকে এলসি দায় রয়েছে ৪৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। একটা সময় পর্যন্ত সার বা লবণ চিনি ইত্যাদি বিষয়ক তথ্যগুলো এভাবে সামনে আসতো না। এবার তথ্যের বিষয়টি ঝরঝরে। তা ইতিবাচক। এখানে প্রাসঙ্গিক আরো কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম, ডলারের বিনিময় হার ও জাহাজভাড়ার পরিবর্তনে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তাও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া হিসাব অনুসারে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহের পরিমাণ ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ প্রস্তুত সরবরাহ চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন বেশি। তথ্য দৃষ্টে এখন পদক্ষেপ জরুরি।
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন
সূত্র: কালবেলা