|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল বিকৃতভাবে কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
১৬৭ পঠিত
১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল বিকৃতভাবে কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নওগাঁর বদলগাছীতে শৃঙ্খলার নামে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে বিকৃতভাবে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে বিব্রত হয়ে পড়েছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর)...

নওগাঁর বদলগাছীতে শৃঙ্খলার নামে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে বিকৃতভাবে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে বিব্রত হয়ে পড়েছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে অসমভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। কয়েক দিন আগে এক শিক্ষার্থীকে এমনভাবে মারধর করা হয় যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী এখন বিদ্যালয়ে যেতে চায় না।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চুল কেটে দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ করতে দেখা যায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মিলন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে দেখি, আমার ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুলও খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।

অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। শীতের মধ্যে এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মিতু বানু নামে এক অভিভাবক বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে এখন সে স্কুলে যেতে চায় না। একজন শিক্ষক যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে তারা কীভাবে বিদ্যালয়ে নিরাপদ বোধ করবে? আমরা ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল। চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা না বলে বা নাপিত ডেকে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি ট্রেনিংয়ে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিন তদন্ত করছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স