|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

২২ বছরেও নিরাপদ নয় আইআইইউসির সামনের সড়ক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
১৭৪ পঠিত
২২ বছরেও নিরাপদ নয় আইআইইউসির সামনের সড়ক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
একজন শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আবারও সড়কে নেমেছেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে ছয় ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেছেন তারা।  প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা, ভারী যানবাহনের অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়...
একজন শিক্ষার্থীকে হারিয়ে আবারও সড়কে নেমেছেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে ছয় ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেছেন তারা।  প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা, ভারী যানবাহনের অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের। পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার হলেও ক্যাম্পাসের সামনে নিরাপদ সড়কের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। কারণ, এই দাবি নতুন নয়। ২০০৪ সালে দুর্ঘটনার পরও ক্যাম্পাসের সামনে স্পিডব্রেকার ও বাসস্টপ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। ২০১৩ সালে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর দেওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর আশ্বাস। এরপর ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২১ সালেও শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর প্রতিবাদ, অবরোধ এবং নিরাপত্তার দাবি উঠেছে। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় ছিলেন মাইশাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের সামনে একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে মাইশার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাজিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী আহত হন। মাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেলপথেও অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগও। প্রায় ছয় ঘণ্টার অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘদিন ধরেই ভারী যানবাহনের চলাচল ও পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কেডিএস ডিপোর সামনে লরি ও অন্যান্য ভারী যানবাহন রাখার কারণে সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এর আগেও দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর স্থায়ী সমাধান হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং প্রধান ফটকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আট দফা দাবিতে কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ ও নিরাপদ সড়ক পারাপারের বিষয়টিও যুক্ত হয়। এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, এর আগেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই আলোচনা ও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০১৮ সালেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। এবার তারা এমন ব্যবস্থা চান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়। বিচার, জবাবদিহি ও স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, জেলা প্রশাসককে সরাসরি ঘটনাস্থলে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের লিখিত আশ্বাস দিতে হবে। পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সেদিনই লিখিতভাবে জানানো হবে। সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে লরি ও গাড়ি পার্কিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদের আশ্বাস দেন তিনি। দুর্ঘটনায় জড়িত লরিচালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ সুপারের আশ্বাসের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লরির মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষকেরা উপস্থিত হন। মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায়ও অংশ নেন তারা। জেলা প্রশাসকের আশ্বাস এবং প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল ও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইআইইউসির সামনে নিরাপত্তা-সংকটের ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। এর আগে ঘটে যাওয়া সড়ল দূর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে , ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ পারভেজকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবহন মালিকদের বৈঠকে ক্যাম্পাসের সামনে স্পিডব্রেকার নির্মাণ এবং বাসস্টপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।  ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাসের চাপায় নিহত হন বিবিএ ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রুবেল। তার মৃত্যুর প্রতিবাদেও শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করেন। ওই সময় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কুমিরার ফকিরহাট এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তানজিনা নেহেরিন। ওই দুর্ঘটনায় আরও ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই কুমিরা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী কাজী সিরাত। ২০২১ সালের ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাঈদ হোসেন রনি নিহত হন। এভাবে ২০০৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পৃথক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা তুমুল আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ঘটনায় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পরবর্তী ঘটনাগুলোর কয়েকটিতে শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ মাইশার মৃত্যু সেই পুরোনো নিরাপত্তা-সংকটকে আবারও সামনে এনেছে। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের বহুল আলোচিত নয় দফা দাবির মধ্যে ছিল বেপরোয়া চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি, চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা। জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং ও প্রয়োজনীয় স্থানে স্পিডব্রেকার নির্মাণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল সেগুলোর মধ্যে। অর্থাৎ নিরাপদ পারাপার, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের জবাবদিহির দাবি নতুন নয়। জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে আইআইইউসির নিজস্ব আন্দোলন বিভিন্ন সময় একই ধরনের দাবি সামনে এসেছে। এছাড়াও ২০০৪ সালে স্পিডব্রেকার ও বাসস্টপ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কালবেলাকে জানিয়েছে, নিজস্ব বাস সার্ভিস ইতিমধ্যে চালু রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে নতুন পাঁচটি বাস সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ৫২টি করে আসন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি বাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও আছে। নিজস্ব বাসের সংখ্যা প্রায় ৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ২০১৮ সালে নিরাপদ পারাপার ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছিল। আর বর্তমান ২০২৬ সালে এসে শিক্ষার্থীদের আবারও ফুটওভারব্রিজ, ভারী যানবাহনের পার্কিং বন্ধ এবং নিরাপদ পারাপারের জন্য আন্দোলনে নামতে হয়েছে। মাইশার মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসকের দেওয়া আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। এক শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলনের মূল দাবি শুধু একটি ফুটওভারব্রিজ নয়। আমরা চাই এমন নিরাপদ ব্যবস্থা, যাতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাণ হারাতে না হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো কেডিএস লজিস্টিকসে আসা-যাওয়া করা শত শত গাড়ি রাখা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। সীতাকুণ্ডের আইআইইউসি প্রধান ফটক ও পাক্কা মসজিদ এলাকায় মহাসড়কের একাংশজুড়ে এসব গাড়ি পার্কিং করায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে প্রায়ই দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনও। ভোগান্তিতে পড়েন শহরগামী রোগী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে রমজান মাসে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড-কুমিরা অংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় জনবল সংকটে চলছে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) না থাকায় সার্জেন্ট শামীম আলম ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। মাইশার মৃত্যুর বিষয়ে শামীম আলম কালবেলাকে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁরা মরদেহ নিয়ে বাড়িতে গেছেন। তবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের কেউ বাদী হয়ে মামলা করবেন। তারা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কেডিএস লজিস্টিকসের গাড়ি পার্কিং ও চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সীতাকুণ্ড মডেল থানা-পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এ সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে। কেডিএস লজিস্টিকসের জেনারেল ম্যানেজার জোবায়দা শারমিন কালবেলাকে বলেন, মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার সঙ্গে তাদের ডিপোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ডিপোতে আসা-যাওয়া করা কনটেইনারবাহী ট্রাক ও লরির জন্য তাঁদের নিজস্ব পাঁচটি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে আনুমানিক ৫০০টি গাড়ি এসব পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। মহাসড়কের পাশে পার্কিং করা গাড়িগুলো তাদের ডিপোর নয় দাবি করে তিনি বলেন, সড়কের আশপাশে যেসব কাভার্ডভ্যান দেখা যায়, সেগুলোর অনেকগুলো রপ্তানি পণ্য নিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টস ও কারখানা থেকে আসে। এসব গাড়ি শিপারদের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের কাজে যুক্ত। আশপাশে আরও ডিপো ও ছোট ছোট পার্কিং ইটাইটেলয়ার্ড রয়েছে। ফলে সড়কের পাশে থাকা সব গাড়িকে কেডিএস লজিস্টিকসের বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। সর্বশেষ দুর্ঘটনায় জড়িত লরিটিও তাদের প্রতিষ্ঠানের নয় বলে দাবি করেন জোবায়দা শারমিন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ঘটেছে। কেডিএসের নিজস্ব ট্রেইলারের রং সবুজ এবং পাওয়ার ইউনিট হলুদ। প্রতিটি গাড়িতে কেডি নম্বর, প্রতিষ্ঠানের লোগো ও সামনের কাচে প্রতিষ্ঠানের নাম স্পষ্টভাবে লেখা থাকে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি তাদের নয় বলে পুলিশকেও ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করেছেন তরা। পুলিশও গাড়িটি যাচাই করেছে বলে দাবি করেন তিনি। জোবায়দা শারমিন আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ থাকায় দুর্ঘটনার পর কেডিএসের গাড়ি জড়িত বলে ধারণা করেছিলেন। মহাসড়কের পাশে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় যেকোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে আসে। তবে দুর্ঘটনায় কেডিএসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্র: কালবেলা