|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

যৌতুক দাবির অভিযোগে মিথ্যা মামলা, বাদীর কারাদণ্ড

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
২৪০ পঠিত
যৌতুক দাবির অভিযোগে মিথ্যা মামলা, বাদীর কারাদণ্ড
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা দায়েরের অভিযোগে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।  আদালত সূত্রে জানা যায়, মোছা. নুরহাত জাহান লিজার করা...

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা দায়েরের অভিযোগে এক নারীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোছা. নুরহাত জাহান লিজার করা একটি মামলায় আসামি মো. তৌফিক হাসানসহ ৩ জনের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে উভয়পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেন আদালত। এ সময় বাদীর দাখিল করা জন্মসনদ ও আসামি তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত কাবিননামায় একাধিক অসংগতি নজরে আসে। 

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাবিননামায় কাজির স্বাক্ষর ছিল না। এ ছাড়া ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের পরিমাণ অঙ্কে ২০ হাজার টাকা লেখা থাকলেও কথায় লেখা ছিল দুই হাজার টাকা। এসব অসংগতির কারণে কাবিননামাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি খারিজ করেন। পাশাপাশি আসামি মো. তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলায় জাল ও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নবীন আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে তার বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিথ্যা জন্মসনদ ও ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে মামলা করার অভিযোগে বাদী মোছা. নুরহাত জাহান লিজাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, এরকম ভূয়া মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে এই আদালতে ফাঁসানোর অনেক নজির আছে। যারা এসব করে অর্থ হাতিয়ে নেয় তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। আমি যতদুর শুনেছি মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটির ধর্মীয়ভাবে বিবাহ হয়েছে; তবে আইনগতভাবে হয়নি। পরে নকল কাবিননামা তৈরি করে মামলা করেন বাদী।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, অন্যকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত ন্যায়বিচার করেছেন।

সূত্র: কালবেলা