|
| |
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

তাহসিফের মৃত্যুর পর বন্ধুর ফেসবুক পোস্ট, পডকাস্টে কী বলেছিলেন তিনি?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
১৭১ পঠিত
তাহসিফের মৃত্যুর পর বন্ধুর ফেসবুক পোস্ট, পডকাস্টে কী বলেছিলেন তিনি?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও। তাহসিফের মৃত্যুর পর তার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কেএসএম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ওই ভিডিও ছড়...
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও। তাহসিফের মৃত্যুর পর তার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কেএসএম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফ জড়িত ছিলেন এবং এ ঘটনায় তাকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছিল।  অন্যদিকে, মৃত্যুর তিন মাস আট দিন আগে প্রকাশিত এক পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বন্ধুর এই দাবি, তাহসিফের পুরোনো বক্তব্য এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ- সব মিলিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে নানা প্রশ্ন। তবে এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঙ্গে ভিডিওটির কোনো যোগসূত্র কিংবা মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। মৃত্যুর পর বন্ধুর ফেসবুক পোস্টে নতুন দাবি তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া কেএসএম ইনতিসার ইনজামাম (KSM Intisaar Inzimam) দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল। তার ভাষ্য, ওই ভিডিও প্রকাশের পর তাহসিফকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছিল। ফেসবুক পোস্টে ইনতিসার লেখেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে।’ পোস্টে তিনি জানান, তাহসিফ গত পরশু রাতে বাইরে যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। মরদেহের হাতে কাদা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা দুর্ঘটনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হলে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বলে ধরে নেবেন। তবে ইনতিসারের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত দাবি ও ধারণা। মরদেহের হাতে কাদা থাকার তাৎপর্য কিংবা তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা প্রমাণের মতো তদন্তের ফল বা আনুষ্ঠানিক তথ্য তিনি পোস্টে তুলে ধরেননি। ফলে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রতিষ্ঠিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বন্ধুত্ব, আদর্শের অমিল ও তাহসিফের চাকরিজীবন ফেসবুক পোস্টে তাহসিফের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন ইনতিসার। তিনি জানান, আদমজী কলেজে তাহসিফ তার বন্ধু ছিলেন। পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৯ বিএমএ-সমমানের কোর্সে তারা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন। ইনতিসারের ভাষ্য, জীবনদর্শনের দিক থেকে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় তাহসিফ তার বক্তব্য চুপ করে শুনতেন। তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের ভিডিও প্রকাশের পর তাহসিফকে বিভিন্নভাবে হেয় করা হয়েছিল। তাহসিফের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা করা সম্ভব হয়নি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে ভিডিওটি প্রকাশের যোগসূত্র রয়েছে বলে নিজের বিশ্বাসের কথা জানান ইনতিসার। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনার আগে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল এবং তখন তাহসিফ স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে বন্ধুর এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিও প্রকাশের কারণে তাহসিফ হয়রানির শিকার হয়েছিলেন কি না, কিংবা বিমানবাহিনী থেকে তার অব্যাহতির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। পডকাস্টে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে কী বলেছিলেন তাহসিফ? গত ২১ জুলাই ‘Speak With Rashid’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক পডকাস্টে নিজের চাকরি, বিমানবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সম্পর্কে কথা বলেন তাহসিফ সাউরি। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তিনি প্রোপাগান্ডা বলে অভিহিত করেন। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে উপস্থাপক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিওর প্রসঙ্গ তোলেন। তাহসিফকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চান। জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘ওখানে তারা ক্লিয়ারলি লিখেছে ভিডিওটি আমি ছড়িয়েছি। আমি যে শুট করেছি, এটাও তারা বলেনি। বলেছে, রিফাত আশরাফী ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি। আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুফ দে আর হ্যাভিং।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাও হতে পারে, এজন্য (এই অভিযোগের জন্য) আমি হয়তো আজকে এয়ারফোর্সে নেই।’ এরপর উপস্থাপক সরাসরি জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই কি তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল? জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘হতে পারে। যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল। সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপরাগতা আছে। আমার মনে হয়, এই অভিযোগের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।’ তাহসিফের বক্তব্যে ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে স্বীকার করা হয়নি। বরং তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণের প্রশ্ন তুলেছেন এবং ওই সময়ের কিছু ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন। তার চাকরি থেকে অব্যাহতির কারণ সম্পর্কেও এই বক্তব্য থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তুরাগ নদ থেকে যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ২৯ অক্টোবর পুলিশ তার পরিচয় ও মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে। নৌ পুলিশ সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর ধরন কিংবা এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভিডিও বিতর্ক ও তাহসিফের মৃত্যু: যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি তাহসিফের মৃত্যুর পর বন্ধুর ফেসবুক পোস্টে করা রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি তার পডকাস্টের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি- ভিডিওটি কে ধারণ করেছিলেন, কে সেটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। একটি বিষয়ে প্রচলিত দাবি অন্য বিষয়গুলোর সত্যতা প্রমাণ করে না। বন্ধুর ফেসবুক পোস্টে তাহসিফের ভিডিওসংক্রান্ত সম্পৃক্ততা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। একইভাবে, পডকাস্টে তাহসিফের বক্তব্যও ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তাহসিফের মৃত্যুর কারণ, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং ভিডিওসংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না; এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন তদন্তের ফল ও প্রামাণ্য তথ্য। সেসব তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা ৫ আগস্টের ভিডিও বিতর্কের যোগসূত্রকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স