|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ঝিনাইদহে সাংবাদিককে জেলে ভরতে যেভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে পুলিশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ এএম
৩৬৩ পঠিত
ঝিনাইদহে সাংবাদিককে জেলে ভরতে যেভাবে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে পুলিশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ঝিনাইদহে সরকারি কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া অরিত্র কুমার কুণ্ডু এবং তার সহযোগী হাবিবুর রহমানকে মারধরের পর কারাগারে পাঠিয়ে তাদের ফাঁসাতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছে ঝিনাইদহ পুলিশ। এর আগে, অরিত্র কুণ্ডুর বাবা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার নিউজ করায়...

ঝিনাইদহে সরকারি কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া অরিত্র কুমার কুণ্ডু এবং তার সহযোগী হাবিবুর রহমানকে মারধরের পর কারাগারে পাঠিয়ে তাদের ফাঁসাতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছে ঝিনাইদহ পুলিশ।

এর আগে, অরিত্র কুণ্ডুর বাবা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার নিউজ করায় তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ডিবি পুলিশের মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেন অরিত্র। ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে’ এবং প্রাণনাশের শঙ্কা থেকে চলতি মাসের ১১ তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও জিডিও করে রেখেছিলেন অরিত্র। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হলো।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজে যান দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাংবাদিক অরিত্র ও বাংলা-৭১-এর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের ৩৮ হাজার টাকার পুরোনো সরকারি ইট ও রড গায়েব করার বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বিজন কুমার সরকারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগত একটি চক্র চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাদের অবরুদ্ধ করে রড দিয়ে বেদম মারধর করে। এই ঘটনা পুলিশের কানে যেতেই সুযোগ নেয় সদর থানা, কারণ অরিত্র স্থানীয় ডিবি পুলিশের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ করেছিলেন। অরিত্র এদিন কলেজ থেকে চলে আসার পর দ্বিতীয় দফায় ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়।

থানায় দায়েরকৃত প্রাতিষ্ঠানিক এজাহার (মামলা নং-৪৭, তারিখ: ২৬/১০/২০২৬) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মামলাটি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু হয় বিকেল ১৬:১০ ঘটিকায় (৪:১০ মিনিটে)। অথচ আহত দুই সাংবাদিককে সকাল ১১:০০ টার দিকেই হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা ছাড়া এভাবে থানায় নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের অতিউৎসাহী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অরিত্রর বাবা। তিনি বলেন, এটি পুলিশের পরিকল্পিত ফাঁদের প্রমাণ দেয়।

অরিত্র কুণ্ডুর বাবা কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে ডিবির ওসিকে নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ করে। এই ঘটনায় ঝিনাইদহের পুলিশ-প্রশাসন ক্ষিপ্ত হয়। এরপর এই কলেজে নিউজের কথা বলে তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর পুলিশ অধ্যক্ষকে দিয়ে মামলা করাতে বাধ্য করেছে।’

মামলার বাদী বিজন কুমার সরকারের বক্তব্যেও রহস্যের ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এই প্রতিবেদক মামলাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো এভাবে আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবো না। আপনাকে সামনা-সামনি আসতে হবে।’

অরিত্রের বাবা দাবি করেছেন সদর থানার ওসি আপনাকে মামলা করতে বাধ্য করেছেন, এটা সত্য কি না এবং ওই সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছে এমন কোনো প্রমাণ আপনার কাছে আছে কি না- এই প্রশ্নের জবাবেও একই কথা বলেন তিনি, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

রিমান্ড আবেদনে অতিরঞ্জিত গল্প:

আদালতে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুম বিল্লাহ ও ওসি মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনে (জিআর নং-৫০৪/২৬) সাধারণ চাঁদাবাজির অভিযোগকে ঘোরানোর জন্য অতিরঞ্জিতভাবে ‘সরকারবিরোধী পরিকল্পনা উদ্ঘাটন’ এবং ‘ইন্ধনদাতা ও অর্থায়নকারী সিন্ডিকেট’ খোঁজার কাল্পনিক দাবি যুক্ত করা হয়েছে বলে অরিত্রর আইনজীবী অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির মামলা করিয়ে পুলিশ রীতিমতো বিদ্যুৎ গতিতে অরিত্রর ডোপ টেস্ট করায়। সেখানে প্রথমে বলা হয় ইয়াবা পজিটিভ, পরে বলা হয় মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে, যা ‘ক’ শ্রেণির মাদক।’

অরিত্রকে আটকাতে পুলিশের কতটা আগ্রহ সেটি বোঝা গেছে পুলিশ সুপার আশিস বিন হাছানের কথায়। গতকাল রাতে কালবেলায় ফোন করে তিনি অরিত্রর বিষয়ে নানা অভিযোগ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে বলেন, ‘আমরা ডোপ টেস্টে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন এটা ক শ্রেণির মাদক। তবে অরিত্র যদি প্রমাণ করতে পারেন যে এটা ডাক্তারের পরামর্শে সেবন করেন, তাহলে বেঁচে যাবেন। তাই এটা মামলা হিসেবে যোগ করিনি। তদন্তের সময় এটা জুড়ে দেওয়া হবে।’

সাংবাদিকরা সংবাদ করতে গেলে অপরাধীরা নিজেদের বাঁচাতে চাঁদাবাজির এমন অভিযোগ প্রায়ই করে থাকেন, আর বাদীর কাছে কোনো প্রমাণও নেই। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন একটি মামলায় পুলিশের এত আগ্রহ কেন, জানতে চাইলে আশিস বিন হাছান বলেন, ‘অরিত্রর বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আছে। তার ওপর ঝিনাইদহের সবাই বিরক্ত।’

এদিকে অরিত্রর বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ডাক্তারের পরামর্শে তাকে নানা ধরনের ওষুধ সেবন করতে হয়, যার অফিশিয়াল প্রেসক্রিপশন তাদের কাছে রক্ষিত আছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স