‘আমাদের ভুল হয়ে গেছে’—সেঞ্চুরি করে সাদমান
গণমাধ্যম ডেক্স
কখনো দায় স্বীকার করে নেন অকপটে, কখনো আবার হাসিমুখে দেন ব্যর্থতার ব্যাখ্যা। মধ্যাহ্নভোজের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সাদমান ইসলাম পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থদের। কিন্তু সব ছাপিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য হয়ে উঠল তাঁর সেঞ্চুরিটাই।
ওপেনিং নিয়ে কয়েক বছর ধরেই রীতিমতো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সাদমানের তিন অঙ্কে পৌঁছানোটা তাই পুরো দলের জন্যই স্বস্তির। ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা তাঁর নিজেরও।
তবে আজ দিন শেষে সাদমান দিয়েছেন আরও বড় কিছুর প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা টপ অর্ডাররা যদি এই স্কোরটা আরেকটু বড়—১৫০, ১৭০ বা ২০০ করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান সাড়ে চার শ বা পাঁচ শ থাকত…আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এরপর যখন এমন পরিস্থিতি আসবে, চেষ্টা থাকবে যত বড় করা যায়।’
দেড় শ বা দুই শ তো একটু দূরের পথই, সাদমানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষাটাই একটু দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল। এবারের সেঞ্চুরিটাই যেমন এসেছে ১৭ ইনিংস পর। গত তিন বছরে তিনি টেস্টে ওপেনারদের মধ্যে রান সংগ্রহে ৭ নম্বরে আছেন। অথচ এই সময়ে ৮টি ফিফটি করেও তাঁর সেঞ্চুরি কিনা মাত্র একটি! ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছিল সাদমানকেও।

বিষয়টা নিয়ে নিজে ভেবেছেন, পথ খুঁজেছেন এ থেকে বেরিয়ে আসার। আজ মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সে কথাই বলছিলেন তিনি, ‘সব সময় চিন্তা করতাম, কেন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি। কিছুদিন ধরে এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমার মনে হচ্ছিল, ফিটনেসের সমস্যা হতে পারে। তাই ফিটনেস নিয়ে ভালোভাবে কাজ করেছি। আবার ব্যাটিংয়েও হয়তো কিছু ঘাটতি ছিল।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতেই বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ওপেনিং নিয়ে। গত ৪ বছরে এক শ পেরোনো উদ্বোধনী জুটি একটিই; ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে সেটি গড়েছিলেন জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন। একজন ওপেনার হিসেবে এই জায়গায় উন্নতির প্রয়োজনটা ভালোই বুঝতে পারছেন সাদমান, ‘আমরা এখন অনেক আলোচনা করি, কীভাবে ওপেনিংয়ে একটা ভালো জুটি গড়ে তোলা যায়, যেন দলের রানটা বড় হয় এবং আমরা ভালো একটা অবস্থানে যেতে পারি।’

মিরপুর টেস্ট এখন দুই দলের জন্যই প্রায় সমান অবস্থায়। ৬ উইকেট হাতে রেখে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের শুরুটা ভালো হলেও আলোক–স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে স্পিনারদের সৌজন্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাদের লক্ষ্য আজ সকাল সকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে দেওয়া। এর জন্য স্পিনারদের দিকেই তাকিয়ে আছেন সাদমান। ভালো জায়গায় বল করা মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দ্রুতই আরও উইকেট পাবেন বলে তাঁর আশা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল অবশ্য মনে করেন, একটি–দুটি বড় জুটি হলেই ম্যাচে এগিয়ে যাবেন তাঁরা, ‘আমার মনে হচ্ছে, ম্যাচটা বেশ সমানে সমান অবস্থায় আছে। আমরা যদি আরও এক-দুটি বড় জুটি গড়তে পারি, তাহলে আগামীকাল (আজ) ম্যাচে এগিয়ে থাকব।’
সূত্র: প্রথম আলো