|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বেতন-ভাতা বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপনে লাউয়াছড়ার কর্মচারীরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
৩১৯ পঠিত
বেতন-ভাতা বন্ধ, মানবেতর জীবনযাপনে লাউয়াছড়ার কর্মচারীরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বন বিটের কর্মচারী ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত এসব সদস্য...

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বন বিটের কর্মচারী ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত এসব সদস্যরা। এমনকি দুর্গাপূজা উপলক্ষেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী সিপিজি সদস্যরা বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম লাউয়াছড়ার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অর্থ ছাড় করছেন না। এর ফলে সিপিজি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটে মোট ৪০ জন কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তাঁরা রোস্টার অনুযায়ী দিনে ও রাতে বন পাহারা দেন। বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব সদস্যের প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।

গত পাঁচ মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম তারা। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এদিকে ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পরও আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সিপিজি সদস্য ও স্টাফদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তখন ওই কমিটির মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলেও বর্তমানে কেন বেতন-ভাতা ছাড় করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বন পাহারা ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত এসব সদস্যের বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের জীবিকা যেমন সংকটের মুখে পড়েছে, তেমনি বন পাহারার কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দ্রুত বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যদের এ ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্র: কালবেলা