|
| |
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এসসিও সম্মেলনে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত

টেস্ট বিশেষ প্রতিবেদক

টেস্ট বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
৩৭২ পঠিত
দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এসসিও সম্মেলনে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) আসন্ন বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত। আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে এসসিওর ‘সভ্যতাগত সংলাপ’ সম্মেলন বসছে। তাতে যোগদানের জন্য পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জম্মু–কাশ্মীরের পেহেলগামে ২০২৫ সালের মে মাসে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হয়েছিল। সেই থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শৈত্য নতুনভাবে জমাট বেঁধেছে। আওরঙ্গজেব খান খিচি ভারতে এলে সেটা হবে প্রথম ব্যতিক্রম। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো গোয়ায় এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

ভারতের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দিল্লিতে এই অনুষ্ঠান হবে ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট হুমায়ুনের তৈরি পুরোনা কেল্লায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য এসসিওর সব সদস্যদেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এসসিও বহুপক্ষীয় সংগঠন। অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এসব ক্ষেত্রে বিবেচিত হয় না। ভারত বরাবরই এ ধরনের বহুপক্ষীয় সম্মেলনকে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখার পক্ষপাতী। এখন দেখার, পাকিস্তান এই আমন্ত্রণে সাড়া দেয় কি না।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, পাকিস্তান সম্মেলনে যোগ দেবে। সেই উদ্যোগ ভারত অনেক আগেই নিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এসসিও সম্মেলনের জাতীয় কো–অর্ডিনেটর অলোক ডিমরিকে ভারত ইসলামাবাদে পাঠিয়েছিল। গত দুই বছরের মধ্যে সেটাই ছিল ভারত সরকারের প্রথম কোনো সরকারি প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক পাকিস্তান সফর।

পাকিস্তান আগামী বছর এসসিওর সভাপতিত্ব করবে। সেই কারণে ডিমরি তাঁর সফরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ফিরে আসার পর আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তান সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মত জেনেই ওই আমন্ত্রণ। যদিও এটা এখনো জানা যায়নি, পাকিস্তান তাদের প্রতিনিধি করে কাকে পাঠাবে।

বহুপক্ষীয় সম্মেলনে দুই দেশ কাছাকাছি থাকলেও ভারত–পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কবে শুরু হবে, এখনো অজানা। নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ কোথাও দুই দেশের হাইকমিশনার এখনো নিযুক্ত হননি। বৈশ্বিক মঞ্চে ভারত এখনো আন্তসীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে উচ্চকিত।

গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার কোনো স্থান নেই। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে বৈদেশিক নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে; অর্থ, আশ্রয়, মনোবল ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে চলেছে, তাদের স্পষ্ট করে বলা উচিত, সন্ত্রাসবাদ কখনো কোনো দেশের কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।

ভারত যেমন আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উচ্চকিত, পাকিস্তানও তেমনি সব আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব ভারতের কাশ্মীর নীতি নিয়ে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।

দুই দেশের এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও এসসিও সম্মেলনে ভারত যোগ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়নি। সম্পর্কের বিন্দুমাত্র উন্নতি না হওয়া সত্ত্বেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যদিও সেই সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি।

চীন ও রাশিয়ার উদ্যোগে চীনের সাংহাইয়ে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানকে নিয়ে ‘এসসিও ফাইভ’ গঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল এসব দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক আস্থা স্থাপন করা। ২০০১ সালে তাতে যোগ দেয় উজবেকিস্তান।

সীমান্তবর্তী সামরিক আস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তারে সংগঠনটি সচেষ্ট হয়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান এসসিওর সদস্য হয়। তারপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ যোগ দেওয়ায় এসসিওর মোট সদস্য হয় ১০টি দেশ।

ভারতে ‘সভ্যতাগত সংলাপ’ সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই। ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মোদি বলেছিলেন, এসব দেশ প্রাচীন সভ্যতার অঙ্গ। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য সেই প্রাচীন সভ্যতা, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এশিয়া ও ইউরেশিয়ার দেশগুলো এভাবেই একে অন্যের কাছাকাছি আসতে পারবে। একে অন্যকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে। পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে।

আগামী বছর এসসিওর সভাপতি হিসেবে শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে পাকিস্তান।

সূত্র: প্রথম আলো