|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইসলামে ব্যয়ে ভারসাম্য ও মিতব্যয়িতার গুরুত্ব

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
৪০২ পঠিত
ইসলামে ব্যয়ে ভারসাম্য ও মিতব্যয়িতার গুরুত্ব
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

ইসলাম মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ বিধান দিয়েছে। শক্তি-সামর্থ্য, অর্থ-সম্পদ ও সময়-সুযোগ; যা কিছু আমরা ব্যয় করি, বিনিয়োগ করি বা কাজে লাগাই, সেসব ক্ষেত্রেই মিতব্যয়িতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বন দুনিয়ার শান্তি ও পরকালে মুক্তির জন্য অপরিহার্য। কোনো কিছুতেই বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন অনুমোদিত নয়। 

মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়িতা মুমিনের গুণ। মুসলিমরা কৃপণতা ও অপব্যয় থেকে মুক্ত থাকবেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আত্মীয়স্বজনকে তার হক দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২৬-২৯)

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘এমনিভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পারো।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৪৩)

অপচয়ের বিষয়ে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো; কিন্তু অপচয় কোরো না। তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৩১)

যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয়ে পরিমিতিবোধের চর্চা করবেন, অনটন তাঁর নাগাল পাবে না। ইসলামের এই মহান শিক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই অনেকে উপার্জনের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তো তারাই, যারা অপব্যয় করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় এই উভয়ের মধ্যবর্তী।’ (সুরা-২৫ ফুরকান, আয়াত: ৬৭)

জীবনের সব ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। লোকদেখানো কাজ ও অহংকার করা যাবে না। এমনকি প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘অহংকারে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না, পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ উদ্ধত–অহংকারীকে পছন্দ করেন না। সংযতভাবে পদচারণ করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয়ই গর্দভের স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।’ (সুরা-৩১ লুকমান, আয়াত: ১৮-১৯)

‘আর তুমি দম্ভভরে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ কোরো না। নিশ্চয়ই তুমি পদক্ষেপে ভূমি বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পর্বতসমান হতে পারবে না।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ৩৭)

একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সাদ (রা.)-কে অজুর সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে বললেন, ‘হে সাদ! অপচয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বললেন, ‘অজুতেও কি অপচয় হয়?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ। প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৫)

মহান আল্লাহ মিতব্যয়ীদের দারিদ্র্যমুক্ত জীবন দান করবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭/৩০৩) অর্থাৎ যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয়ে পরিমিতিবোধের চর্চা করবেন, অনটন তাঁর নাগাল পাবে না। ইসলামের এই মহান শিক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই অনেকে উপার্জনের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন।

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রিজিক। হালাল উপার্জন ফরজ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হালাল উপার্জনের সন্ধান অন্যান্য ফরজের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৬১২৮) তাই আমাদের আচার-আচরণ, আয়-উপার্জন, ব্যয় ও দানের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করতে হবে।

কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহ–তাআলা বলবেন, ‘তুমি তোমার কিতাব (আমলনামা) পাঠ করো। আজ তোমার হিসাব-নিকাশের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ১৪)

আত্মপ্রচার ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করলে পুণ্যের পরিবর্তে পাপ হবে। বিচারের দিনে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেউ এক কদমও নড়তে পারবেন না। প্রশ্নগুলো হলো জীবন কী কাজে ব্যয় করেছেন, যৌবন কীভাবে কাটিয়েছেন, কোন পথে আয় করেছেন, কোন পথে ব্যয় করেছেন এবং অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেছেন কি না। (তিরমিজি, ৪/৬১২; মিশকাত, হাদিস: ৫১৯৭; সহিহ আলবানি)

● অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী 

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

smusmangonee@gmail.com

সূত্র: প্রথম আলো