|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় মানুষের জীবন: প্রধান বিচারপতি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
২৩৫ পঠিত
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় মানুষের জীবন: প্রধান বিচারপতি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ হলো মানুষের জীবন। আমি আমার এই মতের ওপর অটল। এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ জন্য কোনো তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারপাশে তাকালেই তা দেখতে পাবেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায়...
প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ হলো মানুষের জীবন। আমি আমার এই মতের ওপর অটল। এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ জন্য কোনো তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারপাশে তাকালেই তা দেখতে পাবেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আইন বিভাগ আয়োজিত ‘সামসময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীতে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিটি দিন দিন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালেই আমরা এর উদাহরণ দেখতে পাই। আমি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলতে চাই না। শালীনতার খাতিরে সেটি থেকে বিরত থাকছি। কিন্তু আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানবতা ও মানবাধিকার। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, এমনকি শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার, শ্রমিকদের অধিকার এভাবে আমরা অধিকারের নানা শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। আমরা অধিকারের নানা বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।  তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনার মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’ সম্মেলনে দেশের বাহিরে থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, বিভিন্ন দেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অভাবনীয় সাড়া আমাদের সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। জমা পড়া অসংখ্য গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে মৌলিকত্ব ও একাডেমিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপযুক্ত গবেষণাপত্র নির্বাচন করায় Abstract Selection Committee-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আগত সম্মানিত সেশন চেয়ার ও প্যানেল আলোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান মতামত এই সম্মেলনের গবেষণামূলক আলোচনা ও একাডেমিক উৎকর্ষকে আরও সমৃদ্ধ করবে। রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এমন একটি জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক নীতি। তবে সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, দেশ ও দেশের বাইরের গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স