দক্ষিণী দাপটকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখাল শাহরুখের ‘কিং’
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
কোভিড-পরবর্তী অধ্যায়ে ২০২৩ সালে একা হাতে ধুঁকতে থাকা হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বক্স অফিসে চাঙ্গা করেছিলেন ‘বাদশা’ শাহরুখ খান। তার দুর্দান্ত কামব্যাকের কাছে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিও। এরপর কেটে গিয়েছে বছর তিনেক। ২০২৬ সালের শীতের সিনেবাজার ফের একবার সরগরম করতে বড় পর্দায় ফেরার...
কোভিড-পরবর্তী অধ্যায়ে ২০২৩ সালে একা হাতে ধুঁকতে থাকা হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বক্স অফিসে চাঙ্গা করেছিলেন ‘বাদশা’ শাহরুখ খান। তার দুর্দান্ত কামব্যাকের কাছে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিও। এরপর কেটে গিয়েছে বছর তিনেক। ২০২৬ সালের শীতের সিনেবাজার ফের একবার সরগরম করতে বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাহরুখ। ছবির পোস্টার ও ঝলক ইতোমধ্যেই দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই ‘কিং’ সিনেমাটিকে ঘিরে এমন এক তথ্য সামনে এসেছে, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে।
দক্ষিণী সিনেমার প্রবল দাপটের বাজারেও যে বিদেশের সিনেবাজারে নিজের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছেন শাহরুখ খান, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলল তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’র বিদেশি স্বত্ব বিক্রির চুক্তিতে। সূত্রের খবর, এই ছবির আন্তর্জাতিক থিয়েট্রিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন রাইটস বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ১৭৫ কোটি টাকায়। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও ছবির বিদেশি স্বত্বের দাম একশ কোটির গণ্ডি পার করল। স্বাভাবিকভাবেই এই চুক্তি ভারতীয় সিনেদুনিয়ায় এক সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ঘটনা। বলিউড মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু প্রতীক্ষিত এই ছবির আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্ব নিয়েছে ‘ফারস ফিল্মস’ নামক সংস্থাটি। শাহরুখের ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’র কাছ থেকে ১৭৫ কোটি টাকার বিনিময়ে এই স্বত্ব কিনেছে তারা, বিদেশি মুদ্রায় যার বাজারদর প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, এতদিন যাবত শাহরুখ খানের সিনেমার আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশনের নিয়মিত দায়িত্ব সামলাত ‘যশ রাজ ফিল্মস’। বিদেশের বাজারে ‘পাঠান’ এবং ‘জওয়ান’র বিপুল সাফল্যের নেপথ্যেও এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে অন্য কোনো কারণে এবার সেই চেনা দায়িত্ব থেকে সরে এসে নতুন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাটন গিয়েছে ‘ফারস ফিল্মস’র হাতে। অতীতে এই সংস্থার পাশাপাশি প্রভাস অভিনীত ‘সাহো’ সিনেমার বিদেশি ডিস্ট্রিবিউশনও সফলভাবে সামলেছে তারা।
তবে শুধু রেকর্ড চুক্তিই নয়, আসল লড়াই তো অপেক্ষা করছে বক্স অফিসে। আন্তর্জাতিক বাজারে চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে ‘কিং’কে বিদেশে কমপক্ষে ৩৭ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিনশো থেকে পৌনে চারশো কোটি টাকার ব্যবসা করতে হবে। শুধু তাই নয়, টপকে যেতে হবে ‘পাঠান’ এবং ‘জওয়ান’র আন্তর্জাতিক বক্স অফিস কালেকশনকেও। আর এটাই এখন শাহরুখ খানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ২০২৩ সালের ওই দুই সুপারহিট সিনেমা বিদেশি বাজার থেকে প্রায় চারশো কোটি টাকা আয় করেছিল। অন্যদিকে, ‘ধুরন্ধর ২’ ৪৬০ কোটি এবং ‘আরআরআর’ ৪৩০ কোটি টাকার ব্যবসা করে রেকর্ড গড়েছিল। অতএব, আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে এগিয়ে থাকতে হলে ‘কিং’কে এই বিশাল আয়ের গণ্ডি পার করতেই হবে। তবে ১৭৫ কোটি টাকার এই বিরাট অঙ্কের চুক্তির পর যে ছবিটির বক্স অফিস ব্যবসা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে, সে কথা একবাক্যে স্বীকার করছেন সিনে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স