|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শ্রমজীবী বাবা-মায়ের অদম্য সন্তানের অনন্য জয়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
১৯৬ পঠিত
শ্রমজীবী বাবা-মায়ের অদম্য সন্তানের অনন্য জয়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বাবা নির্মাণশ্রমিক, মা এনজিও অফিসের আয়া। বাবার কাজ থাকে না প্রতিদিন, মায়ের মাসিক বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। নেই কোচিং করার সামর্থ্যও। তবু দারিদ্র্যের কাছে হার মানেননি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মো. মোন্নাফ হোসেন মুন্না। নিজের অধ্যবসায় আর বাবা-মায়ের ত্যাগকে শক্ত...
বাবা নির্মাণশ্রমিক, মা এনজিও অফিসের আয়া। বাবার কাজ থাকে না প্রতিদিন, মায়ের মাসিক বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। নেই কোচিং করার সামর্থ্যও। তবু দারিদ্র্যের কাছে হার মানেননি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মো. মোন্নাফ হোসেন মুন্না। নিজের অধ্যবসায় আর বাবা-মায়ের ত্যাগকে শক্তি করে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। মুন্নার এই সাফল্যে স্বস্তি ফিরেছে শ্রমজীবী বাবা-মায়ের চোখেমুখে। তবে এখানেই থামতে চান না তিনি। স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষিত হওয়া, প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের কষ্ট ঘোচানো। মুন্না এবার সরকারি বেগম নুরুন্নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ধানঘরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। মুন্নার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় নির্মাণশ্রমিক। মা মোছা. মিরা খাতুন একটি এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করেন। বাবার অনিয়মিত আয় আর মায়ের সামান্য বেতনে চলে পাঁচজনের সংসার। সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে ঋণের বোঝাও বেড়েছে। অর্থাভাবে কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়নি মুন্নার। তবে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। মুন্নার মা মোছা. মিরা খাতুন বলেন, ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব, এটাই আমার স্বপ্ন। এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করে মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন পেতাম। সংসারে অভাব-অনটন ও ঋণ রয়েছে। তারপরও নিজের প্রয়োজন কমিয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করেছি। ছেলের এ ফলাফলে আমাদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে। বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ সব সময় থাকে না। কোনো দিন কাজ পাই, আবার কোনো দিন বাড়িতে বসে থাকতে হয়। অভাবের সংসার হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন কখনো ছাড়িনি। ছেলে ভালো ফল করেছে, এতে আমরা অনেক খুশি। নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে মোন্নাফ হোসেন মুন্না বলেন, আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাদের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে চাই। সেখানে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারব। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সরকারি বেগম নুরুন্নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও সে যেন উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, মহান আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি।

সূত্র: কালবেলা