|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর জার্মানির একাধিক শহরে সহিংসতা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
৩৭০ পঠিত
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর জার্মানির একাধিক শহরে সহিংসতা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আন্দ্রেয়াস রসকপ্ফ বলেন, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘উগ্র বামপন্থী ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা’ ছিলেন। আরও সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

জার্মানিজুড়ে গতকাল শনিবার জেন-জিদের একটি সংগঠনের ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভে হাজার হাজার তরুণ অংশ নিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চললেও সন্ধ্যায় কয়েকটি শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার এসব ঘটনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পটকা নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।

দ্য জাইট পত্রিকা জানিয়েছে, পুলিশের ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেল পুলিশ শাখার চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়াস রসকপ্ফ রাইনিশে পোস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, জেন-জিদের বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে মূল কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ, বার্লিন, স্টুটগার্ট ও কোলনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

এই কর্মকর্তার ভাষ্য, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘উগ্র বামপন্থী ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা’ ছিলেন। আরও সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

হামবুর্গের প্রধান রেলস্টেশনের কাছে স্টাইনডাম এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পটকা, আতশবাজি ও বোতল নিক্ষেপ করে। কয়েকজন নির্মাণস্থলের প্রতিবন্ধকতা খুলে রাস্তায় ছুড়ে ফেলেন এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দুটি জলকামান ব্যবহার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রাঙ্কফুর্টে কয়েক ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর কনস্টাবলারভাখে এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে পটকা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুলিশ জলকামান মোতায়েন করে। পুলিশের হিসাবে, সেখানে প্রায় আট হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

স্টুটগার্টেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কোলনে মুখোশধারী কয়েকজন আতশবাজি পোড়ানোয় মিছিলের শুরুতেই পুলিশ তাঁদের থামিয়ে দেয়। ব্রেমেনে পুলিশ সদস্যদের ঘুষি ও লাথি মারার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী বার্লিনের ব্রান্ডনবুর্গ গেট এলাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়। রোজেনথালার প্লাৎজ থেকে প্রেনৎসলাউয়ার বের্গের দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল এগিয়ে যায়। সেখানে আন্তর্জাতিক সংহতি ও ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান শোনা যায়।

কার্লসরুহ শহরে প্রায় দুই হাজার মানুষের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। পুলিশ ডানপন্থী মতাদর্শের প্রায় ১০০ জনের একটি দলকে বিক্ষোভকারীদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

নুরেমবার্গে পটকা নিক্ষেপের ঘটনায় একজন বিক্ষোভকারী আহত হন। সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন।

এরফুর্টে প্রায় এক হাজার ৯০০ মানুষের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন ও সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা করেন। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশও ছিল তাঁদের দাবির অন্যতম বিষয়।

বিক্ষোভের আয়োজক ‘জেন–জি রেগেল্ট’ বলেছে, জার্মানির বিভিন্ন শহরে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অধিকাংশ শহরে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল।

জার্মানিজুড়ে কত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো