|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পাহাড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ‘বন ও প্রাণের উৎসব’

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
২২৬ পঠিত
পাহাড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ‘বন ও প্রাণের উৎসব’
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
প্রকৃতি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী ‘বন ও প্রাণের উৎসব'।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পিঠাছড়া সংলগ্ন খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্...

প্রকৃতি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী ‘বন ও প্রাণের উৎসব'। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পিঠাছড়া সংলগ্ন খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহম্মেদ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ও মাটিরাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু।  

পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেলের সভাপতিত্বে উৎসবে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নৃতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. জিনাত মাহরুখ বানু, ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং এবং রাঙামাটির বন সংরক্ষক মো. আব্দুল আওয়াল সরকার।

উৎসবে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জানাত বীথি, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এমএন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু ও জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক কামাল উদ্দীন দীপ্ত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকৃতি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বর্ণিল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে পাহাড়, বন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আমাদের অমূল্য সম্পদ। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি চেষ্টার পাশাপাশি পিটাছড়ার মতো সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগকে সার্বিক সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠন উদ্যোগ বিভাগে রিতু পারভী (পারভীন আক্তার), প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগে হরিরামপুরের শ্যামল নিসর্গ ও প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ বিভাগে শ্রীমঙ্গলের সোহেল শ্যাম-কে এ বছর ‘পিটাছড়া পরিবেশ সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করা হয়। 

উৎসবের দিনটিতে নানা ধরনের আকর্ষণীয় পরিবেশনা ও প্রতিযোগিতায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দুপুর থেকে অনুষ্ঠিত হয় পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, বাঁশ খেলা এবং জনপ্রিয় হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির বর্ণিল পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আলোচনা সভা শেষে মঞ্চস্থ হয় পরিবেশভিত্তিক নাটক ‘অরণ্যের খোঁজে’।

পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রাসেল বলেন, শুধু বন রক্ষা কিংবা বন্যপ্রাণী বাঁচানোই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়; বরং মানবজীবন ও প্রকৃতির মাঝে হারানো মেলবন্ধন ফিরিয়ে আনা এবং পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সজীব করে তোলা জরুরি। নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংসের এই সময়ে বনের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং জীববৈচিত্র্যের এই অপার ভাণ্ডারকে টিকিয়ে রাখতেই আমাদের এই নিরলস প্রয়াস। প্রকৃতি ও প্রাণের এই সুরক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

সন্ধ্যার পর পিটাছড়া সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় পাহাড়ের শিশুদের নাটক ‘অরণ্যের খোঁজে’। এ সময় চট্টগ্রামের সুপরিচিত গানের দল ‘অগ্নিবীণা’ মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশন করে। পরিশেষে জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী বগা তালেবের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অবস্থিত পিটাছড়ার ৭৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই সংরক্ষিত অরণ্য জীববৈচিত্র্যের এক অপার ভাণ্ডার। এখানে রয়েছে ১৫০ প্রজাতির পাখি, ২৭ প্রজাতির সাপ এবং ২০ প্রজাতির ব্যাঙ ও কচ্ছপ। এছাড়া লজ্জাবতী বানর, বনরুই ও মেছোবিড়ালের মতো বিরল বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল এই বন।

সূত্র: কালবেলা