‘দুনিয়া টাকার গোলাম’ নাটকের ডালপালা আরও বিস্তৃত করা হবে
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ইউটিউবের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা এবং সাধারণ দর্শকদের ড্রয়িংরুম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া সামাজিক মেগা ধারাবাহিক ‘দুনিয়া টাকার গোলাম’। ‘প্র্যাঙ্ক কিং এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে নির্মিত এই নাটকটি কোটি কোটি ভিউ এবং দর্শকের প্রশংসাসূচক মন্তব্যের...
ইউটিউবের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা এবং সাধারণ দর্শকদের ড্রয়িংরুম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া সামাজিক মেগা ধারাবাহিক ‘দুনিয়া টাকার গোলাম’। ‘প্র্যাঙ্ক কিং এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে নির্মিত এই নাটকটি কোটি কোটি ভিউ এবং দর্শকের প্রশংসাসূচক মন্তব্যের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। কোনো মেগাস্টার বা বড় পর্দার চেনা তারকা ছাড়াই শুধু গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয়ের ওপর ভর করে নাটকটি যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, তা বর্তমান বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
নাটকটির এই অভূতপূর্ব সাফল্য, পেছনের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি কালবেলার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন পরিচালক সাইদুর রহমান সবুজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিবশংকর দেবনাথ।
‘দুনিয়া টাকার গোলাম’ ধারাবাহিকটি বড় বাজেট বা কোনো পরিচিত মেগাস্টার ছাড়াই শুধু শক্তিশালী গল্প ও সাধারণ পরিবেশের ওপর নির্ভর করে প্রায় ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই নাটক নির্মাণের পেছনের চ্যালেঞ্জ এবং কৌশলগুলো আসলে কী ছিল?
সাইদুর রহমান সবুজ: শুরু থেকে তো পরিকল্পনা ছিল একটা সিরিজ করার। আমি যখন সিঙ্গেল ড্রামাগুলো করছিলাম, তখন সজীব ভাই (প্র্যাঙ্ক কিং-এর প্রতিষ্ঠাতা আর্থিক সজীব) একদিন আমাকে বললেন যে, ‘সবুজ, একটা সিরিজ রান করার প্ল্যান করছি।’ তো ভাইয়ের সঙ্গে বসার পর গল্প নিয়ে আলোচনা হলো এবং কাজ শুরু করলাম। শুরুর দিকে ভেবেছিলাম মানুষ এটা ক্লিক করবে কি না বা একসেপ্ট করবে কি না। তবে প্রথম থেকেই মোটামুটি ভালো রেসপন্স পেলাম। তখন সজীব ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, যেহেতু সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাই আরও বেশি ডেডিকেটেডলি কাজ করতে হবে।
গল্পের বৈচিত্র্য ও দর্শক এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য আপনারা কী ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন?
সাইদুর রহমান সবুজ: আমরা আমাদের গল্পগুলোকে আরও কীভাবে টাইট করা যায় এবং দর্শককে কীভাবে আরও বেশি এনগেজ করা যায়, তা নিয়ে ভেবেছি। তখন সমসাময়িক বা ফ্যামিলি ড্রামা টাইপের কাজের একটি নির্দিষ্ট ট্রেন্ড চলছিল। আমরা ভাবলাম এর বাইরে কোনো রিস্ক নিয়ে কিছু করা যায় কি না। হালকা ফ্যামিলির সঙ্গে একটু অ্যাকশন প্যাটার্ন এবং থ্রিল-সাসপেন্স মিক্সড আপ করে একটা কিছু দাঁড় করানোর চেষ্টা করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, দর্শক ভালোভাবে একসেপ্ট করেছে এবং দিন দিন এনগেজমেন্ট আরও বাড়ছে। এটা টোটালি একটা টিমওয়ার্ক। আমাদের আর্টিস্টরা খুবই সাপোর্টিভ এবং ডেডিকেটেড। তারা নির্দেশনা বুঝতে পারছে এবং সুন্দর ফিডব্যাকও পাচ্ছে, যার কারণে ভালো একটা প্রোডাকশন রান হচ্ছে।
অনেকেরই এমন দাবি রয়েছে, ৪০ পর্বের পর গল্পগুলো টেনে লম্বা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
সাইদুর রহমান সবুজ: অনেকে হয়তো বলছেন যে গল্পটা কবে শেষ হবে বা টেনে লম্বা করা হচ্ছে। কিন্তু আমি তো কমেন্ট সেকশনগুলো নিয়মিত দেখি, অডিয়েন্স আসলে কী চাচ্ছে বা কোন দিকে গল্প নেওয়া উচিত তা বোঝার চেষ্টা করি। অনেকেই কমেন্ট করেন যে এটি আরও বড় দেখতে চান। আবার অনেকেই মনে করেন গল্প টেনে বড় করা হচ্ছে।
যদি সত্যিই বোরিং হতো বা শুধু শুধু টেনে বড় করা হতো, তবে দিন দিন এনগেজমেন্ট বাড়ত না। যেমন—আগে আমাদের এপিসোডগুলো ১২ ঘণ্টায় ১০ মিলিয়ন হতো, আর শেষ দিকের একটি এপিসোড মাত্র ১১ ঘণ্টায় ১০ মিলিয়ন ভিউ পার করেছে! এমনকি এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এতে স্পষ্ট, মানুষের ভালো লাগা এবং এনগেজমেন্ট দিন দিন বাড়ছে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের কমেন্টই থাকবে। যেহেতু এনগেজমেন্ট বাড়ছে, তাই আমাদের সামনে আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। প্রোডাকশনের ভ্যালু কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, বড় বড় কাস্টিংগুলোকে কীভাবে ইনভলভ করা যায় এবং গল্পটাকে আরও ডালপালা বিস্তৃত করে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়—এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি।
‘দুনিয়া টাকার গোলাম’ নাটকের একটি পর্ব ইউটিউবে না দেওয়ার বিষয়ে কিছু গুঞ্জন ছিল, সেটার আসল সত্যতা কী?
সাইদুর রহমান সবুজ: আমাদের সব পর্বই ইউটিউবে দেওয়া আছে। বিষয়টি হলো—প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববারে আমাদের এপিসোডগুলো প্রচার হয়; তাই রোববারে যে পর্বটি ইউটিউবে প্রকাশ হওয়ার কথা, সেটি আমরা আগেই বৃহস্পতিবার ওটিটিতে লঞ্চ করব। যারা ওটিটিতে দেখতে চান তারা যেন আগে দেখতে পারেন, আর রোববারে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইউটিউবেও আপলোড হবে।
কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাদেশে পাইরেসির অবস্থা খুবই খারাপ। ওটিটিতে আপলোড দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই দেখি সেটি ডাউনলোড হয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে যায়। পরে ভাবলাম এই ঝুঁকিতে যাওয়া ঠিক হবে না, তাই ওটিটির ওই নির্দিষ্ট কৌশলটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সূত্র: কালবেলা