‘ঠিকানা’–এর শিডিউল না দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজকের নোটিশ, রাজের জবাব
গণমাধ্যম ডেক্স

বারবার শিডিউল চেয়েও ‘ঠিকানা’ সিনেমার জন্য শিডিউল মেলেনি—এমন অভিযোগে গত শনিবার চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। অভিযোগপত্রে নোটিশের তারিখ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিডিউল দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের জবাবে রাজ বলেন, ‘আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেইনি, এমন কেউ বলতে পারবে না। এবারও শিডিউল দিতে চাচ্ছি না, এমন কোনো কিছু ঘটেনি।’
‘ঠিকানা’ সিনেমার প্রযোজক শাহরিন আক্তার গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিনেমাটি আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি দেব। আর চুক্তিতে বলা হয়েছে, ঈদে মুক্তি পাবে। এ সময়ে রাজ আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করতে পারবেন না। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখলাম তিনি একসঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন। সেই সিনেমাগুলোও ঈদে মুক্তি পাবে। সেগুলোতে শিডিউল দিয়েছেন, অথচ আমাদের শিডিউল দিচ্ছেন না।’
কিন্তু শনিবারের পাঠানো নোটিশে বলা আছে, সিনেমাটি ঈদ অথবা ঈদের পরেও মুক্তি পেতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ঈদেই দিতে চাই। এর বাইরে কিছু লেখা থাকার কথা না।’ শিডিউল কি দিতে চান না রাজ? এমন প্রশ্নে শাহরিন বললেন, ‘সে মার্চের শুরুতে শিডিউল দিতে চায়।’
সিনেমাটির পরিচালক জুবাইর ইবনে বকর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের শিডিউল দিচ্ছে না, টাকাও দিচ্ছে না। সে ফাঁসায়ে দিয়েছে!’ পরে অবশ্য পরিচালক এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাইলেন না। তিনি বললেন, ‘প্রযোজকের বক্তব্যই নিন। আমি কোনো বক্তব্য দেব না।’
তবে প্রযোজক ও পরিচালকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরীফুল রাজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিচালক বলছেন, টাকা দিচ্ছি না, প্রযোজক বলছেন শিডিউল দিচ্ছি না। এমন কোনো কিছু তো হওয়ার কথা নয়। আমি তো সিনেমা করতে এসেছি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেইনি এমন কেউ বলতে পারবে না। ঈদেই তাদের সিনেমা মুক্তি পাবে আর এই সময়ে অন্য কোনো সিনেমায় আমি শুটিং করতে পারব না, এমন কোনো কথা হয়নি। আর তাদের যোগাযোগ করার অনেক আগে থেকেই মৌখিকভাবে ২–৩টা সিনেমা নিয়ে কথা বলা ছিল। তাদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাকে হেয় করার জন্য। তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে আমার পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে।’
প্রযোজকের অভিযোগ নিয়ে রাজ আরও বলেন, ‘তাদের ইচ্ছা ঈদে অথবা ঈদের পরে সিনেমাটি মুক্তি দেবে। কিন্তু অন্য কোনো সিনেমা করা যাবে না—এটা তো চুক্তিতে নাই। এখন তাদের সিনেমা যদি দুই বছর পরে মুক্তি পায় তাহলে আমি দুই বছর বসে থাকব। আমার ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে আমি এমন চুক্তি কেন করব। আর তাদের সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে শিডিউলের ব্যাপারে কথা হয়েছে। সেখানে কীভাবে আইনি নোটিশ পাঠায়। পেশাগত জায়গায় শিডিউলের জন্য এমন অভিযোগ, আইনি নোটিশ আমাকে হতবাক করছে।’
শরীফুল রাজ ও পরিচালক ইবনে বকরের পাঠানো চুক্তির ৪.১১ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘ঠিকানা’ মুক্তি অথবা মুক্তির শিডিউল যখন হয় তখন সেটি ছাড়া রাজ অভিনীত অন্য কোনো সিনেমা মুক্তি পাবে না। আবার চুক্তির ৯ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, ঈদুল আজহার সময়ে অথবা পরে যেকোনো সময় এটি মুক্তি পাবে, এ সিদ্ধান্ত নেবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। শনিবার পাঠানো আইনি নোটিশের ২ নম্বর ধারায় মুক্তি নিয়ে একই কথা বলা, ঈদ অথবা পরে যেকোনো সময় মুক্তি পাবে।
চুক্তিতে ঈদের পরেও যেকোনো সময় মুক্তি পেতে পারে, এই শর্তটি এ প্রসঙ্গে প্রযোজক শাহরিন বলেন,‘ঈদের পরে মুক্তি পাবে চুক্তিতে এটা থাকার তো কথা নয়।’ এ সময় প্রযোজককে ধারাগুলো পড়ে শোনানো হয়। তখন তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান।
শরীফুল রাজ সবশেষে বলেন, ‘শুরু থেকে তাদের আচরণ আমাকে হতাশ করেছে। পেশাদার আচরণ তারা করেনি। তারপরও শিল্পী হিসেবে আমি ধৈর্য ধরেছি। এর মাঝেই শিডিউল প্রসঙ্গে আইনি নোটিশ দিয়েছে। যে অভিযোগ সত্য নয়। শিডিউল নিয়ে যথেষ্ট কথা হয়েছে। তারা আমার সম্মানহানির চেষ্টা করছে, যা পেশাদার সুলভ নয়। এখন আমিও আইনিভাবেই কথা বলব।’

চুক্তিতে ঈদের পরেও যেকোনো সময় মুক্তি পেতে পারে, এই শর্তটি এ প্রসঙ্গে প্রযোজক শাহরিন বলেন,‘ঈদের পরে মুক্তি পাবে চুক্তিতে এটা থাকার তো কথা নয়।’ এ সময় প্রযোজককে ধারাগুলো পড়ে শোনানো হয়। তখন তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান।
শরীফুল রাজ সবশেষে বলেন, ‘শুরু থেকে তাদের আচরণ আমাকে হতাশ করেছে। পেশাদার আচরণ তারা করেনি। তারপরও শিল্পী হিসেবে আমি ধৈর্য ধরেছি। এর মাঝেই শিডিউল প্রসঙ্গে আইনি নোটিশ দিয়েছে। যে অভিযোগ সত্য নয়। শিডিউল নিয়ে যথেষ্ট কথা হয়েছে। তারা আমার সম্মানহানির চেষ্টা করছে, যা পেশাদার সুলভ নয়। এখন আমিও আইনিভাবেই কথা বলব।’
সূত্র: প্রথম আলো