|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রাধাচূড়ার রঙে বদলে গেছে চেনা পথ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম
৩৮৪ পঠিত
রাধাচূড়ার রঙে বদলে গেছে চেনা পথ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা এলাকা থেকে একটি পথ সোজা চলে গেছে মনু নদ প্রকল্পের বাঁধের রাঙাউটি হয়ে শমসেরনগর সড়কে। দুই পাশে ধানখেত, মাঝখানে সরু সড়ক। সেই সড়কের এক পাশে এখন সারি ধরে ফুটেছে লাল, হলুদ রাধাচূড়া। রাঙাউটি পর্যন্ত এক কিলোমিটারের কাছাকাছি পথটুকু এখন ফুলে ফুলে সেজে আছে।

হলুদ রাধাচূড়া। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়

মনু নদ প্রকল্পের বড় বাঁধ থেকে পানির একটি নালা তালতলায় (একসময় এখানে তালগাছ ছিল, সেই থেকে নাম) এসে মিশেছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার এই নালার পূর্ব পাড়টি এখন একটি সংযোগ সড়ক। মাতারকাপনে মনু ব্যারাজ হয়ে এই সড়ক মৌলভীবাজার-কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার-শমসেরনগর—জেলার এই দুই প্রধান সড়ককে যুক্ত করেছে। প্রয়োজন না হলে এক সড়ক থেকে আরেক সড়কে এখন আর মৌলভীবাজার শহর ঘুরে যেতে হয় না।

গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার তালতলায় গিয়ে দেখা গেল, সড়কের পশ্চিম পাশে সারি ধরে লাগানো ফুলের গাছ। কোথাও থোকা থোকা হলুদ ফুল বাতাসে দুলছে, কোথাও আবার লাল ফুলের সমারোহ। কিছু গাছে ফলও এসেছে। লম্বা শিমের মতো কাঁচা ফল সবুজ, পাকা ফলে খয়েরি রং ধরেছে। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা থেকে দক্ষিণে তাকালেই ফুলের এই নজরকাড়া রং চোখে পড়ে। যাঁরা একটু সময় নিয়ে হাঁটেন, তাঁরা ফুল ঘিরে ভ্রমরের ওড়াউড়ি আর গুঞ্জনও শুনতে পান।

লোকমুখে প্রচলিত, টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া।

সড়কের পূর্ব পাশে এখনো ঘন সবুজ। সেখানে পলাশ, শিমুল, সোনালুসহ আরও কিছু গাছ বড় হচ্ছে। ফুল ফোটার সময় হলে এগুলোও ডালপালা ফুলে ভরে তুলবে বলে। রাধাচূড়ার ছোট ছোট নতুন গাছেও কুঁড়ি আসছে। সড়কের পাশে রাঙাউটি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব গাছ লাগিয়েছে। দুই পাশের ধানখেত এখনো সবুজ, তবে ধান পাকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও সোনালি রঙের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

লালচে কমলা রঙের রাধাচূড়া ফুল। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়

রাধাচূড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফুল। দেখতে অনেকটা কৃষ্ণচূড়ার মতো, তবে গাছ আকারে ছোট, ফুলের রঙেও ভিন্নতা আছে। নামের উৎস নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। তবে লোকমুখে প্রচলিত, শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনির সঙ্গে মিলিয়ে এই নাম দেওয়া হয়েছে। টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া।

রাধাচূড়ার ফল। গত শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার তালতলা এলাকায়

রাধাচূড়ার ফুল ডালের আগায় লম্বা ডাঁটায় থোকা বেঁধে ফোটে। ফুলের সৌরভ নেই, তবে দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় নাবিকদের মাধ্যমে এর বীজ এশিয়ায় আসে, পরে তা ভারত উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নাম বা ইতিহাস যা-ই হোক, তালতলা থেকে রাঙাউটি পর্যন্ত এই একটুরা সড়ক এখন রাধাচূড়ারই পথ। সবুজ পাতার ঝোপ ছাড়িয়ে লাল ও হলুদ ফুল সড়কটিকে রঙিন করে তুলেছে। এই পথ দিয়ে যাঁরা যান, তাঁদের একবার অন্তত ফুলের দিকে তাকাতেই হয়।

সূত্র: প্রথম আলো