|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১০ এএম
৩২১ পঠিত
পদ্মা ব্যারাজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার অভিশাপ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে মুক্ত করতে বড় সম্ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প চালু হলে চার বিভাগের ১৯ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে...
শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার অভিশাপ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে মুক্ত করতে বড় সম্ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্প চালু হলে চার বিভাগের ১৯ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। বাড়বে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও কর্মসংস্থান; পুনরুজ্জীবিত হবে মৃতপ্রায় নদ-নদী।  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বৃদ্ধিসহ সব মিলিয়ে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে। বর্তমান সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর হবে, অন্যদিকে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে পানি ও মাটির অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশের পানি, কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। ফারাক্কার প্রভাবে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মরূকরণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী প্রায় মৃতপ্রায়। নদীগুলোতে পলি জমে নাব্যতা কমার পাশাপাশি লবণাক্ততা বাড়ছে। অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণের সক্ষমতা না থাকায় বন্যার কবলে পড়ছে এসব অঞ্চলের জনপদ। পরিবেশের এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ, অর্থনীতি, সেচ, কৃষি, মাছ উৎপাদন ও নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো জীব-বৈচিত্র্য। এর প্রভাবে দেশের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়ছেন। কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে মেশিনের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে ব্যবহার করছেন। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, বাড়ছে আর্সেনিকের ঝুঁকি। এ ছাড়া মৃতপ্রায় নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছেন অনেক জেলে। পানির অভাবে নদীভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়ছে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব। এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার (পদ্মা) পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদও আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধনের পরিকল্পনা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। পানি ভবনে পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি অফিস আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছি আমরা। গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের সুবিধা তুলে ধরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর ওই অঞ্চলে মানুষ আর বসবাস করতে পারবে না। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। মাছসহ অন্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে। কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এর পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। যদিও দ্বিতীয় ধাপে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজটির নির্মাণকাজ চলতি বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট দূর করতে এ ব্যারাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি সরবরাহের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। এতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। নদীভাঙন কমানো ও নাব্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে গত দুই দশকে পদ্মা নদীবিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ পানির সংকটের পাশাপাশি সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বাড়বে। এ ছাড়া পলি জমার কারণে জলাবদ্ধতা বাড়বে। এ জন্য ওই অঞ্চলগুলোতে মিঠাপানির সর্বোচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজ বড় ভূমিকা রাখবে। মাশফিকুস সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে, পানি ও মাটিতে থাকা লবণাক্ততা হ্রাস পাবে। নিঃসন্দেহে প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকার নিশ্চয় সেগুলো বিবেচনা করেই এগোচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই: সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষি, অর্থনীতি ও প্রাণিসম্পদসহ নানাভাবে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেটি তখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আমরা সামনে এনেছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে আন্দোলন করেছি। সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হবে। জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সার্বিকভাবে উপকৃত হবে। সেচ সুবিধা পাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে। প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা; ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় বাস্তবায়িত হবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল, ইছামতীসহ প্রধান নদীব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চয়ন ও আর্সেনিক দূষণ কমানোও এ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। দীর্ঘদিনের পানিসংকট ও লবণাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে প্রকল্পটি। সূত্র: বাসস

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স