|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

নির্যাতন ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চান মা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
২৩৫ পঠিত
নির্যাতন ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চান মা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
রাজধানীর মহাখালীতে স্কুলছাত্রী সিমির (১৩) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা চাঁদনী বেগম। মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক মাদক সেবন, ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করলেও থানা পুলিশ তা গ্রহণ না করার অভিযোগ করছে ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর...

রাজধানীর মহাখালীতে স্কুলছাত্রী সিমির (১৩) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা চাঁদনী বেগম। মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক মাদক সেবন, ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করলেও থানা পুলিশ তা গ্রহণ না করার অভিযোগ করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন চাঁদনী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, রাজধানীর মহাখালী এলাকায় মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। গত এপ্রিল মাসে বাসার নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে সাইদুর ও টুম্পা নামের এক দম্পতি তাদের দুই সন্তানসহ চাঁদনীর বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন। তাদের ঘিরে বিভিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ১ মে তারা বাসা ছেড়ে চলে যান। পরে ওই দম্পতির মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন চাঁদনী।

চাঁদনীর ভাষ্য, গত ২০ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিমি স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় স্কুলে খোঁজ নেন তিনি। সেখানে মেয়ের কোনো তথ্য না পেয়ে সন্ধ্যায় বনানী থানায় নিখোঁজের বিষয়টি জানান। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক তদন্ত শুরু করেন।

তিনি বলেন, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সিমিকে তার কাছে ফিরিয়ে দেয়। এসময় একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও কীভাবে বা কোথা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। এমনকি সিমিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেও নিষেধ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তার। পরবর্তী সময়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে তার ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক মাদক সেবন, ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগের কথা জানতে পারেন স্কুলছাত্রী সিমির মা।

চাঁদনীর দাবি, এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গত ৮ জুলাই মেয়েকে নিয়ে বনানী থানায় যান তিনি। তখন দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক শাকিল তাদের বক্তব্য শোনেন। তবে সিমিকে উদ্ধার করেছিলেন এসআই রফিক। তিনি থানায় এলে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান শাকিল। পরে রফিক থানায় এলে তাকে পুরো ঘটনা জানান এবং সাইদুর ও টুম্পার ছবি দেখান। এরপরও রাত ৮টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান পাননি। পরদিন আবার আসতে বলা হয়। পরে আর তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাদের থানায় যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। সিমির মৃত্যুর আগে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় যাননি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে চাঁদনী জানান, গত ১৫ জুলাই রাতে বাসায় ফেরার পর মেয়ের আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন তিনি। পরে তার মেয়ে রাগ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খোলা হয়। তখন সিমিকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৬ জুলাই মেয়ের মরদেহ নিয়ে বনানী থানায় যান চাঁদনী। তার অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পুলিশ সিএনজি থেকে মরদেহ নামায়। তবে তার অভিযোগ গ্রহণ না করে অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়। 

এ ঘটনায় মামলা করার আবেদন জানালে আদালত তাকে জানায়, নতুন করে মামলা করার সুযোগ নেই। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাতে সন্তুষ্ট না হলে পুনঃতদন্তের আবেদন করতে পারবেন তিনি।

সিমির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ, মোবাইল ফোনের তথ্য, সম্ভাব্য ভিডিও এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি জানান চাঁদনী। পাশাপাশি সিমির ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, জোরপূর্বক মাদক সেবন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত চান তিনি।

চাঁদনী বলেন, ‘আমি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। আমি শুধু চাই, সত্য ঘটনা সামনে আসুক এবং কোনো ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক।’

গণমাধ্যম, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন চাঁদনী। তিনি বলেন, মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা যেন সময়ের সঙ্গে হারিয়ে না যায়। একজন মা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার অধিকার তার রয়েছে। তিনি সিমির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান এবং ন্যায়বিচার চান।
 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স