ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮
গণমাধ্যম ডেক্স
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নবগঠিত উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কসবা পৌর সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন মো. হোসেন (৪০), কসবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০), মো. জুয়েল (৩০), রাব্বি (২৫) ও রাসেদুল ইসলাম রাসেলসহ আরও ৩ জন। আহত অবস্থায় তাদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত কমিটির সমর্থক নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় আসেন। এ সময় কমিটির বিরোধিতাকারী অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা মিছিলে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের ৮ জন আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী পদবঞ্চিত নেতা রাজু আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ কালো টাকা দিয়ে কবির আহমেদের হস্তক্ষেপে তৃণমূলের মতামত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে কমিটি গঠন করায় তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত তিন দিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। এতে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে।’
নবগঠিত কসবা উপজেলা ছাত্রদল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শিমুল মিয়া বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা বহু হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন সুন্দর কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আনন্দ মিছিল করতে গেলে প্রতিপক্ষরা মিছিলে আক্রমণ করেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের ১৩ সদস্যবিশিষ্ট দুটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এতে সিরাজুল ইসলাম ইমুকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক এবং সাদ্দাম খন্দকারকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। অন্যদিকে পৌর ছাত্রদলের সভাপতি করা হয় এনামুল হক আপেলকে, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় জান্নাতুল বাকি হৃদয়কে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। ওই কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা কবির আহাম্মদ ভূইয়া ও তার ছোট ভাই আবদুর রহমান সানির কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর নবগঠিত কমিটির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স