|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আবার কি একই ভুল করল বাংলাদেশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
২৭৩ পঠিত
আবার কি একই ভুল করল বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
একাদশ নির্বাচনের হিসাবে যে বাংলাদেশ একটু ভুল করে ফেলেছে, তা বোঝার জন্য সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সারা দিনে হতে পারা ৭০ ওভারের খেলাই যথেষ্ট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৩৫/৪ (জাঙ্গু ১১১*, উইকহ্যাম ৬১, গ্রিভস ৩৫*, জশুয়া ১২, কিং ৯; তাসকিন ২/৬১, হাসান ২/৫৮)।

প্রথম দিনের খেলা আলোকস্বল্পতায় একটু আগেভাগে শেষ হয়ে গেল বলে; নয়তো হিসাবটা আরেকটু পরিষ্কার হতো। পেসার আর স্পিনারদের পারফরম্যান্সের ব্যবধানটাও স্পষ্ট হতো আরও। অবশ্য মাত্র তো প্রথম দিন শেষ হলো, সামনে অন্য রকম হতেও পারে।

তবে সিলেট টেস্টের একাদশ নির্বাচনের হিসাবে যে বাংলাদেশ একটু ভুল করে ফেলেছে, তা বোঝার জন্য সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সারা দিনে হতে পারা ৭০ ওভারের খেলাই যথেষ্ট। মিরপুর টেস্টে তিন স্পিনার খেলিয়েও সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। সিলেটেও সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে এরই মধ্যে গুনতে শুরু করেছে মাশুল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ দিন শেষে করেছে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান নিয়ে। সমান ১৪ ওভার করে বল করে তাদের সব কটি উইকেটই নিয়েছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ। তিন স্পিনারের ৪২ ওভারে উইকেট তো আসেইনি, এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের আউটের কোনো সুযোগও তৈরি হয়নি।

সারা দিনে যে চারটি ক্যাচ বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ছেড়েছেন, সবই পেসারদের বলে। এমনকি কোনো এলবিডব্লু বা ক্যাচ আউটের জন্য রিভিউ নেওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারেননি স্পিনাররা।

গতকাল বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছিলেন, এপ্রিলে এই মাঠে খেলা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের উইকেটের মতোই মনে হচ্ছে এবারের উইকেট। ওই ম্যাচেও একাদশে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ।

দুটি উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ

আজ অবশ্য আকাশে মেঘ ছিল, ছিল শীতের আবহ ছড়িয়ে দেওয়া কুয়াশাও। সকালে দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন। বলে মুভমেন্ট ছিল, বাউন্সও ঠিকঠাক মতো পাচ্ছিলেন। তা কাজে লাগিয়ে ২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ উইকেট তুলে নেন দুজন।

শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ের সাফল্যটা তিনি ঘরে তোলেন ইনিংসের পঞ্চম ওভারে গিয়ে—তাঁর ফুল লেন্থের বল ভেতরে ঢোকে স্টাম্প উপড়ে ফেলে ব্রেন্ডন কিংয়ের স্টাম্প।

পরের ওভারে হাসান মাহমুদও উইকেট পেয়ে যান। ওই ওভারে তাঁর একটা বল ছেড়ে বাড়তি বাউন্স থাকায় অল্পের জন্য বোল্ড হওয়া থেকে বেঁচে যান কেভাম হজ। পঞ্চম বলে আবার একই কাজ করতে গিয় এবার হয়ে যান বোল্ড।

নিজের স্পেলের পঞ্চম ওভারে এসে আরও এক উইকেট এনে দেন তাসকিন। এবার তাঁর বলে এলবিডব্লু হন জশুয়া ডি সিলভা। কিন্তু ততক্ষণে গরম পড়তে শুরু করায় তাসকিনও ক্লান্ত হয়ে যান বেশ। প্রায় প্রতি ওভার শেষেই তাঁকে বাউন্ডারি লাইনে ছুটে যেতে দেখা গেছে। ভেজা তোয়ালে নিয়ে সেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।

হাসান মাহমুদও পেয়েছেন দুটি উইকেট

প্রচুর ঘামতে থাকা তাসকিনকে থামতে হয় ৭ ওভারে গিয়ে। আর দুই প্রান্ত থেকেই পেস বোলিংয়ের ইতি টানতে হয় ইনিংসের দশম ওভারের পর। অথচ তখনও পেসারদের বল মুভ করছিল, বাউন্সও ছিল, আকাশ থেকে মেঘও সরেনি পুরোপুরি।

মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে শুরু হওয়া স্পিনাররা উইকেট নেওয়া তো দূর, সুযোগও তৈরি করতে পারছিলেন না। মাঝে দুই ওভার বিরতি দিয়ে তাসকিনের প্রান্ত দিয়ে বোলিংয়ে আনা হয় হাসান মাহমুদকে। দুই ওভার করেও তিনি আর উইকেট এনে দিতে পারেননি। প্রথম সেশনের বাকি সময়ে সেটি পারেননি কোনো বোলারই।

ততক্ষণে থিতু হয়ে যায় কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গুর জুটি। উইকেটের দেখা যখন একেবারেই মিলছিল না, তখন নতুন এক পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হন হাসান। উইকহ্যামকে শর্ট বল করতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরিয়ে ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় শর্ট লেগেও।

তাতে কাজও হয়। হাসানের গুড লেন্থে পড়া বল ভেতরে ঢুকে ভেঙে দেয় উইকহ্যামের অফ স্টাম্প। ৬১ রানে আউট হওয়ার আগে জাঙ্গুর সঙ্গে তাঁর ১৩১ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানটা সুবিধাজনক জায়গায় নেওয়ার পথটা অবশ্য ততক্ষণে হয়ে যায়।

সেই পথ ধরে দলকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান জাঙ্গু। ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পার হয়েছেন তিন অঙ্ক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের সেঞ্চুরির ইনিংসটিতে জাঙ্গু থেমেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি (২৩৩) করে। এবার কত দূর যান, সেটিই দেখার। আগামীকাল ৩৫ রান করা জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ১১১ রানে অপরাজিত জাঙ্গু দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন।

সূত্র: প্রথম আলো