শুরু হয়েছে তিন দিনের জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা
গণমাধ্যম ডেক্স
নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিনদিনের জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা।
প্রায় ৬০ জন নারী উদ্যোক্তার সৃজনশীল পণ্য নিয়ে আজ ৫ নভেম্বর রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বৃহস্পতিবার সামিট ও মেলার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারসচিব মাহবুবা ফারজানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পসচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন আব্দুন নাসের খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।
নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মসূচিগুলো গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রচারণার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে বলে জানান মাহবুবা ফারজানা। নারী উদ্যোক্তাদের একজন মা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে।

আব্দুন নাসের খান বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার সাফল্য অন্য নারীদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ঋণপ্রাপ্তি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এসএমই ফাউন্ডেশন সহায়তা দেবে।

জাতীয় এসএমই নারী-উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলায় পোশাক ও ফ্যাশন পণ্য, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গৃহসজ্জা সামগ্রী, লাইফস্টাইল পণ্য, ফ্যাশন অনুষঙ্গ, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত যত্নের পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আছে মেলায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, ডিজিটাল ও সৃজনশীল সেবাও প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা, অনলাইন বাজার, পরিবেশক, পাইকারি ক্রেতা, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড এবং রপ্তানিকারকদের যোগাযোগ তৈরির জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য থাকছে উদ্যোক্তা আড্ডা ও সেমিনার। ব্যবসা শুরু, অর্থায়ন, বাজার তৈরি, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল বিপণন, অনলাইন ব্যবসা, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। উদ্যোক্তাদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক জীবনের ভারসাম্য এবং অনিশ্চয়তা মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা সেশনেরও আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে বিশেষ অবদানের জন্য পাঁচজন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে। এতে কর্মরত রয়েছেন তিন কোটির বেশি মানুষ।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাঁদের ৬০ শতাংশই নারী। নারী উদ্যোক্তাদের অর্জন, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা এবং তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।
ছবি: এসএমই ফাউন্ডেশন
সূত্র: প্রথম আলো