|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বর্ণান্ধতা কী, কাদের ঝুঁকি বেশি 

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
৪০১ পঠিত
বর্ণান্ধতা কী, কাদের ঝুঁকি বেশি 
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চোখের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগকারী স্নায়ু বা অপটিক নার্ভ রঙের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে।

আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন, যাঁরা এই রঙিন পৃথিবীকে ধূসর দেখেন। লাল–সবুজের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। এমনটি কেন হয়?

তার আগে জানতে হবে, বস্তুকে আমরা কেন রঙিন দেখি? সূর্যের আলোতে থাকে রংধনুর সাত রং। সাত রঙের সমন্বিত রূপ হলো সাদা। দিনের আলো কোনো বস্তুতে আপতিত হলে সেই বস্তু সূর্যের আলোর বিভিন্ন রংকে শুষে নেয়।

কোনো কোনো রং বস্তু থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে চোখে পড়ে। চোখের সংবেদনশীল স্তর বা রেটিনাতে বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষ বা ফটোরিসেপ্টর থাকে, যারা বিশেষ সিগন্যালের মাধ্যমে রঙিন বার্তাটিকে মস্তিষ্কে পাঠায়।

মস্তিষ্ক তখন বলে দেয় বস্তুটি লাল নাকি সবুজ বা কোন রঙের। মানে রং বোঝার উৎস হলো সূর্য, চোখের বিশেষ ফটোরিসেপ্টর বা ‘কোণ সেল’ হলো অ্যান্টেনা ও মস্তিষ্কে এর চূড়ান্ত অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

চোখের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগকারী স্নায়ু বা অপটিক নার্ভ রঙের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। কোনো কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা বার্তাবাহক স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে রঙিন অনুভূতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তখন তাকে বলা হয় কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধ। দৃষ্টি ভালো থাকলেও বর্ণান্ধ হতে পারে।

কালার ব্লাইন্ড বা রং বুঝতে না পারা এক সমস্যা নয়। কারও কারও বর্ণান্ধতা জন্মগত বা জেনেটিক ত্রুটির জন্য হয়ে থাকে। এঁরা সাধারণত লাল–সবুজের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। এর কোনো চিকিৎসা নেই। তাঁদের দৃষ্টিসমস্যা থাকে না। দৈনন্দিন কাজে কোনো বিঘ্ন না হলেও এঁরা ড্রাইভিং, ড্রয়িং ডিজাইন, সিগন্যালিং, স্ক্রিন বা মাইক্রোস্কোপে রং–নির্ভর কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন না।

আবার একজন সুস্থ ব্যক্তি হঠাৎ করে কালার ব্লাইন্ড হতে পারেন। যেমন অপটিক নিউরাইটিস বা অপটিক নার্ভে প্রদাহ, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের টিউমার বা কোনো কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অতিমাত্রায় অ্যালকোহল বা মদের বিষক্রিয়া ইত্যাদি।

এখানে কোণ ফটোরিসেপ্টর  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নার্ভের প্রদাহ, বিষক্রিয়া বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হলে দ্রুত চিকিৎসা করে সেরে তোলা সম্ভব। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা নিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. ছায়েদুল হক, চক্ষুবিশেষজ্ঞ, উপাধ্যক্ষ, মার্কস মেডিকেল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা

সূত্র: প্রথম আলো