|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৩ দিনের অনুমতি নিয়ে তিন মাস ধরে ড্রেজিং, ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ!

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
৩১৪ পঠিত
৩ দিনের অনুমতি নিয়ে তিন মাস ধরে ড্রেজিং, ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ!
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাত্র তিন দিনের অনুমতি নিয়ে ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সেই কার্যক্রম চলছে প্রায় তিন মাস ধরে। অনুমতিপত্রে মাটি কেটে বিক্রি না করার স্পষ্ট শর্ত থাকলেও তা অমান্য করে মাটি বিক্রি ও জমি ভরাটের অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের অনুমতির মেয়াদ ও শর্তের তোয়াক্কা না ক...

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাত্র তিন দিনের অনুমতি নিয়ে ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সেই কার্যক্রম চলছে প্রায় তিন মাস ধরে। অনুমতিপত্রে মাটি কেটে বিক্রি না করার স্পষ্ট শর্ত থাকলেও তা অমান্য করে মাটি বিক্রি ও জমি ভরাটের অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের অনুমতির মেয়াদ ও শর্তের তোয়াক্কা না করে এভাবে কৃষিজমির মাটি কাটায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়নের ১৩২ নম্বর চরবড়ালী মৌজায় এ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে ওই এলাকায় ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল মোল্লা নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ড্রেজার পরিচালনা করে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি একাধিক জমি ভরাটেও ব্যবহার করা হচ্ছে এসব মাটি। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অনুমতিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া স্বাক্ষরিত একটি অনুমতিপত্রে মাত্র তিন দিনের জন্য ড্রেজিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ওই অনুমতিপত্রে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি কেটে বিক্রি না করার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, তিন দিনের অনুমতির আড়ালে প্রায় তিন মাস ধরে চলছে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম। নির্ধারিত সময়ের পরও কীভাবে ড্রেজিং অব্যাহত রয়েছে এবং অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল মোল্লা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। সাংবাদিক, থানা-পুলিশ, তারাও অবগত আছেন। আপনি এসে দেখা করে যান।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, এখানে কখনো মাছ চাষ হতো না। এটি সমতল ফসলের মাঠ ছিল। তাদের কাছে একটি অনুমতিপত্র আছে। কারা, কী কারণে ফসলি মাঠে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিল, তা আমি জানি না।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, মাটি তো এতদিন কাটার কথা না। মাত্র তিন দিনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান (মানিক) বলেন, সাবেক ইউএনও চলে গেছেন অনেক দিন হলো। তারা তিন দিনের অনুমতি নিয়ে এতদিন ড্রেজিং করে কীভাবে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এদিকে, অবিলম্বে ড্রেজিং বন্ধ, অনুমতিপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত এবং ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স