|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়, প্রশ্ন নাহিদ ইসলামের

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
২৮৯ পঠিত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়, প্রশ্ন নাহিদ ইসলামের
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

‘আজকে ৭ নভেম্বর। বিপ্লব ও সংহতি দিবস এটাকে বলা হচ্ছে এবং এটাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। আমরাও ৭ নভেম্বরকে ধারণ করি। ৭ নভেম্বর বিপ্লব, কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়? বর্তমান সরকার এটা করছে। তাদের পক্ষে যেটা যাচ্ছে, সেটা বিপ্লব, আর তাদের পক্ষে যায় না, তাদের নেতৃত্ব ছিল না বলে, সেটা বিপ্লব না। সেটা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান হয়ে যায়। কিন্তু আমরা ৭ নভেম্বরকেও বিপ্লব মনে করি, জুলাই বিপ্লবকেও আমরা বিপ্লব মনে করি।’

আজ শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যেই বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, যেই রক্ষীবাহিনী নির্যাতন করেছিল বাংলাদেশের জনগণকে, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করেছিল, তার বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামরিক এবং জনগণের অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল ৭ নভেম্বরে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও এই আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি, জনতা, শ্রমিক, ছাত্ররা এক গণবিপ্লব সাধন করেছিল। ফলে এই ইতিহাসগুলো আপনাদেরকে জানতে হবে, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব হঠাৎ করে হয়ে যায় নাই, ৩৬ দিনেও হয়ে যায় নাই, বিগত ১৬ বছরেও হয়ে যায় নাই। বাংলাদেশের গত ১০০ বছরের ইতিহাস দেখতে হবে, বাংলাদেশকে যারা শোষণ-শাসন করতে দিয়েছে যুগে যুগে, বাংলাদেশের জনগণ বারবার তাঁদের রুখে দাঁড়িয়েছে মানবিক মর্যাদার জন্য, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, চাকরি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি দূর, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করাই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের এসব আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও চর্চা করতে হবে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষসংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও উপহার তুলে দিয়ে ছাত্রসংগঠনের দায়িত্ব শেষ হয় না। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, শ্রেণিকক্ষসংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রকৃত দায়িত্ব।

আগামী ডিসেম্বরকে প্রতিরোধের মাস উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়—“শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব।” কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যারও বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যারও বিচার পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যদি ন্যায়বিচার না পায়, তখন জনগণ নিজেই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর আমাদের প্রতিরোধের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে বিজয় লাভ করেছি, চব্বিশেও বিজয় লাভ করেছি। ২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশা আল্লাহ।’

সূত্র: প্রথম আলো