এআইয়ের সহায়তায় সিইও সেজে ১৩ লাখ ডলার জালিয়াতি, ইসরায়েলিসহ গ্রেপ্তার ৩
গণমাধ্যম ডেক্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেজে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইউরোপে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁরা।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ইসরায়েলের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও ইউএস অ্যাটর্নি অফিসের (ইউএসএও) সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের প্রকাশ করা নথি থেকে বৃহস্পতিবার এ খবর জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—ইসরায়েলের নাগরিক শ্যারন হাজান ও গাই শিতরিত। শিতরিতের ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। অন্যজন হলেন তাঁদের সহযোগী এবং স্পেন ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক জ্যাকব সোয়াল।
এ নজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং ও পরিচয় চুরির মতো একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউএসএও জানায়, অভিযুক্ত তিনজন বিভিন্ন কোম্পানির নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতেন। এরপর এআইয়ের সহায়তায় সেসব কর্মকর্তার কণ্ঠ ও ছবি নকল করতেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতেন, একটি বড় পরিমাণের গোপনীয় আর্থিক লেনদেনের জন্য তাঁদের সাহায্য দরকার।
চক্রের সদস্যরা নিজেদের সিইও হিসেবে পরিচয় দিতেন। এরপর তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বড় কোনো আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলতেন। তাঁরা বোঝাতেন, ওই আইনজীবীরা এ লেনদেনের কাজ করছেন। প্রতারণামূলক এ অর্থ স্থানান্তর যে বৈধ, সেটা বিশ্বাস করানোর জন্য তাঁরা নিজেরাই আইনজীবী সাজতেন বলেও জানায় ইউএসএও।
আইনজীবী পরিচয় দেওয়া চক্রের এক সদস্য ওই কর্মীদের বিপুল অর্থ অন্য দেশে থাকা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে বলতেন। হিসাবগুলো স্পেন, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া ও চীনের মতো দেশে থাকা তাঁদের অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগীরা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর কর্মীরা অর্থ পাঠানোর পরপরই চক্রের সদস্যরা তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা) রূপান্তর করতেন। হাতিয়ে নেওয়া অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন রাখার জন্য তাঁরা এমনটা করতেন। পরে সেসব অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিতেন।
অভিযুক্ত তিনজন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের একটি আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানি থেকে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির একটি হাসপাতাল থেকে ৪৮ লাখ ডলার, ফ্লোরিডার একটি পোষা প্রাণীর খাবারের প্রতিষ্ঠান থেকে ৫২ লাখ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি হাসপাতাল থেকে ২৯ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযুক্ত তিনজনকে স্পেন ও যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছেন।
জালিয়াতি আর মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটির জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া পরিচয় চুরির গুরুতর দুটি অপরাধের প্রতিটির জন্য তাঁদের আরও ২ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সূত্র: প্রথম আলো