|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যা করে মরদেহ গুমের হুমকি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
২৫০ পঠিত
১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে হত্যা করে মরদেহ গুমের হুমকি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চট্টগ্রাম নগরের মাঝিরঘাটে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রফিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যা করে মরদেহ গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার...

চট্টগ্রাম নগরের মাঝিরঘাটে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রফিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে হত্যা করে মরদেহ গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্যবসায়ী রফিক। নগরের ৫৭০ স্ট্যান্ড রোডের মাঝিরঘাট এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।

ঘটনার পর সদরঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রফিক। পরে গত ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর দুপুরে পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াদ আহসানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১১ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে।

এ সময় তারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে রফিকের ছেলে হৃদয় এবং দুই কর্মচারী সাগর ও মালেককে মারধর করে।

দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রফিক অফিসে পৌঁছালে রিয়াদ তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকেও মারধর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম এবং তার প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অফিস ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এতে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে পুরোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন রফিক। তিনি বলেন, ২০২২ সালে ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছিল। পরে আরটিজিএস পদ্ধতিতে ব্যাংকের মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করা হলেও চেকটি ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টো ওই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন বলে জানান তিনি।

রফিক জানান, একসময় ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে রিয়াদ তার মুঠোফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক তথ্য ও যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে তার ব্যবসায়িক গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার পিপি ওভেন ব্যাগ সরবরাহের একটি অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

এ ঘটনায় রিয়াদ আহসান ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান রফিক। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যাংকের লেনদেনের নথি ও আদালতের আদেশ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের পরিবার, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিয়াদ আহসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরাম উল্লাহ বলেন, ‘ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বা হামলার ঘটনায় আমাদের জিরো টলারেন্স। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাঝিরঘাট পিপি ব্যাগ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম, আতিকুল ইসলাম নয়ন, নওশাদ আলী খান ও রুবেলসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স