|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সৌদি আরবে ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রচার নিয়ে বিতর্ক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ এএম
৩২৯ পঠিত
সৌদি আরবে ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রচার নিয়ে বিতর্ক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সৌদি আরবের রাস্তায় ও বিভিন্ন সিনেপ্লেক্সে বলিউড চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’র বিশাল বিলবোর্ড ও অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা আসার পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতা...
সৌদি আরবের রাস্তায় ও বিভিন্ন সিনেপ্লেক্সে বলিউড চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’র বিশাল বিলবোর্ড ও অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা আসার পর বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাউথ সুপারস্টার যশ। ইসলামের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত একটি কট্টর রক্ষণশীল দেশে সনাতন ধর্মের মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্রের এমন প্রকাশ্য প্রচারণা অনেককেই বিস্মিত করেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন প্রধান শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সিনেমা হলগুলোয় রামায়ণ চলচ্চিত্রের বিশাল পোস্টার ও বিলবোর্ড দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার হিসেবে সৌদি আরবে সিনেমাটির অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের ঘোষণাও দেওয়া হয়। ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের দেশে রামায়ণের মতো একটি হিন্দু মহাকাব্যের এমন দৃশ্যমান প্রচার দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল নেটিজেন এবং সমালোচকদের একটি বড় অংশ এই প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, সৌদি আরবের মতো একটি মুসলিম প্রধান ও ধর্মীয় দিক থেকে সংবেদনশীল দেশে এই ধরনের চলচ্চিত্রের প্রকাশ্য প্রচার দেশের ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকে এটিকে সংস্কৃতির ওপর একধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব হিসেবেও দেখছেন। অন্যদিকে, আধুনিক বিশ্লেষক এবং সিনেমা প্রেমীরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কোনো ধর্মীয় প্রচার নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের একটি সাধারণ বাণিজ্যিক কৌশল। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০’র অধীনে দেশটিতে বিনোদন খাতকে ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিশ্বমানের যে কোনো সিনেমার প্রদর্শনকে এখন সেখানে একটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌদি আরবে রামায়ণ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালেও একটি গুঞ্জন রটেছিল, সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যক্রমে রামায়ণ ও মহাভারত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। কিন্তু এবারের আলোচনাটি কোনো গুজব নয়; বরং একটি বড় বাজেটের বলিউড সিনেমার প্রকাশ্য বিপণন ও প্রচারণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সৌদি আরবে ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’ চলচ্চিত্রের এই প্রচারণা দেশটির বিনোদন জগতের আধুনিকায়ন এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি এই চলচ্চিত্রটি মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকদের মাঝে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: অপইন্ডিয়া

সূত্র: কালবেলা